উপকূলে আটকে মৎস্যজীবীদের হাজার হাজার ট্রলার, অর্থনীতিতে বড়সড় ধসের আশঙ্কা

Published:

Indian Fishermen,

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চলমান পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ (Middle East War) শুধুমাত্র যে মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ এমনটা নয়, বরং তার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের উপকূলেও। হ্যাঁ, জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দাম আর রান্নার গ্যাসের টানাটানি তো রয়েছেই। তবে সেই কারণেই এবার গোয়া ও মহারাষ্ট্রের মৎস্যজীবীরা (Indian Fishermen) গভীর সংকটের মুখে। শত শত মাছ ধরার নৌকা আজ সমুদ্রের বদলে তীরে আটকে রয়েছে। আর পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই অচলাবস্থা না কাটলে দুই রাজ্যের অর্থনীতিতে সম্পূর্ণ ধস নামবে।

গ্যাসের অভাবে ধুঁকছে নৌকা পরিবহন

আসলে মৎস্যজীবীদের জন্য রান্নার গ্যাস এখন যেন সোনার থেকেও বেশি দামি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন বলছে, উপকূলে একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কালোবাজারে প্রায় ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। আর গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলে একটি ছোট্ট নৌকায় ৪-৫ জন মানুষের অন্তত একটি এবং বড় ট্রলারগুলিতে তিন থেকে চারটি সিলিন্ডার প্রয়োজন পড়ে। তবে যোগানের অভাবে অনেক মৎস্যজীবী এখন নৌকার ভিতরেই কাঠের আগুনে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সত্যি ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি গ্যাসের অভাবে অনেক নৌকা তাদের সমুদ্রযাত্রার সময়সীমাও কমিয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে মৎস্যজীবীদের সবথেকে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইকারি ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি। তেল বিপণন সংস্থাগুলি সম্প্রতি ডিজেলের দাম লিটার প্রতি আরও ২৩ টাকা করে বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে যে পাইকারি ডিজেল লিটার প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যেত, মুম্বাইতে এখন তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা। এমনকি কোনও কোনও উপকূলীয় এলাকায় এর দাম লিটার প্রতি ১৩৮ টাকা পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। এদিকে একটি মাছ ধরার নৌকায় প্রতি ১৫ দিনে প্রায় ২০০০ থেকে ৩০০০০ লিটার ডিজেল খরচ করতে হয়। যার ফলে জ্বালানি খরচ একধাক্কায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার কারণে মৎস্যজীবীদের পিঠ একেবারে দেয়ালে ঠেকে দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আরও পড়ুন: হরমুজের পর আরও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে পারে ইরান, ধাক্কা খাবে বিশ্ব বাণিজ্য?

অর্থনীতিতে ধসের আশঙ্কা

প্রসঙ্গত, মৎস্য খাত শুধুমাত্র যে মানুষের জীবিকা এমনটা নয়। বরং, গোয়া ও মহারাষ্ট্রের জিডিপিতে বিরাট অবদান রাখে। ২০২৪-২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, গোয়ার জলসীমায় প্রায় ১.২৭ লক্ষ টন মাছ ধরা পড়েছিল, যার বাজার মূল্য ছিল আনুমানিক ২৩ বিলিয়ন ভারতীয় রুপি। আর এই মাছের সিংহভাগই আমেরিকা, চিন এবং ইউরোপে রফতানি হয়। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রে মৎস্য শিল্পের বার্ষিক লেনদেন দাঁড়ায় প্রায় ৯১২১ কোটি টাকা। আর মুম্বাইয়ের কোলি সম্প্রদায়সহ কয়েক লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সরাসরি এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আগামী ১০ দিনের মধ্যে জ্বালানি সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে মহারাষ্ট্র ও গোয়ার কয়েক হাজার নৌকা স্থায়ীভাবে মাছ ধরা বন্ধ করে দেবে। যার ফলে কর্মসংস্থানে বিরাট প্রভাব পড়বে।

google button