হতে পারেন গ্রেফতার, তার আগেই বড় পদক্ষেপ দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির

Published:

Aditi Munshi

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিরোধী দলের বিরুদ্ধে যেন ক্ষেপে উঠেছে বিজেপি সরকার। দুর্নীতি, আয়-বহির্ভূত সম্পত্তি, তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগে তৃণমূলের একের পর এক ছোটো-বড়-মাঝারি নেতাদের গ্রেফতার করছে শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশ। এমতাবস্থায় গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি (Aditi Munshi) এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty)। আইনি রক্ষাকবচ পেতে হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন।

হাইকোর্টের দ্বারস্থ দেবরাজ অদিতি

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় আয়ের সঠিক তথ্য গোপন এবং আয় বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ উঠেছিল। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা চলছিল। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা করছেন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী তথা বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী। তাই আগে থেকেই আজ, বৃহস্পতিবার, কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই সেই মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। আগামিকাল সেই মামলার শুনানি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিজেপির বিজয়মিছিল আটকানোয় গ্রেফতার অমিত

গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই দেবরাজের কোনো খোঁজ মিলছিল না। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন ছড়ায়, আইনি জট এড়াতে তিনি সম্পূর্ণ নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছেন। কিছুদিন আগেই দেবরাজ চক্রবর্তীর ডান হাত অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। গত ৪ মে ভোটের গণনার দিন বিজেপির বিজয়মিছিল আটকানোর চেষ্টার অভিযোগে বাগুইআটি থানা এলাকা থেকে ধরা হয় তাঁকে। ওই একই ঘটনায় পুলিশ আগেই শ্রীঘরে পুরেছে বিধাননগর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী এবং হেমন্ত চৌধুরীকে। এখন গ্রেফতারির আশঙ্কায় রয়েছেন দেবরাজ এবং অদিতি।

আরও পড়ুন: ফ্রি বাস, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পর মহিলাদের শৌচাগার, বড় পদক্ষেপের পথে রাজ্য

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ণেন্দু বসুর জায়গায় রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুরুপের তাস ছিলেন অদিতি মুন্সি। আর সেবার বিজেপির শমীক ভট্টাচার্যকে প্রায় ২৫ হাজার ভোটে হারিয়ে বিধায়ক হন তিনি। সকলেরই ধারণা ছিল যে অদিতির জয়ের নেপথ্যের আসল কারিগর ছিলেন তাঁর স্বামী, দেবরাজ চক্রবর্তী। তবে এবার নির্বাচনী প্রচারে ছায়াসঙ্গীর মতো স্ত্রীর পাশে দেবরাজ থাকলেও শেষরক্ষা হয়নি। বিজেপির তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে হেরে প্রাক্তন হতে হয়েছে অদিতিকে।