প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) সবচেয়ে হেভিওয়েট কেন্দ্র ভবানীপুরের (Bhowanipore) প্রার্থী হিসেবে এদিন নিজের মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। চারিদিকে ছিল বিপুল জনস্রোত। নেতা, কর্মী থেকে আম জনতা, মুখে জয় বাংলা স্লোগান। মিছিল জুড়ে সম্প্রীতির ছবি। এরপর নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনে মাত্র চারজনকে সঙ্গে নিয়ে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন পেশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। আর সেখান থেকে বেরিয়েই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পুনরায় সরকার গঠনের কথা জানালেন তিনি।
বাংলায় পুনরায় সরকার গড়বে মমতা
বুধবার, মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়েই এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবেগঘন মেজাজে ভবানীপুরের মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি ৩৬৫ দিনই এখানে থাকি। আমি সেই ছোটবেলা থেকে এখানেই আছি, এখানেই থাকব। ভবানীপুরের মানুষকে আমার কৃতজ্ঞতা, নমস্কার ও সেলাম।” এরপরই গোটা রাজ্যের কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “ভবানীপুরের পাশাপাশি ২৯৪ কেন্দ্রেই জোড়াফুল প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি। বাংলায় সরকার আমরাই গড়ছি।” এদিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার মিছিলে কমিশনের বিরুদ্ধে SIR নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নাম বাদ দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ মমতার
ভোটার তালিকা থেকে ৯১ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে কেন্দ্র ও কমিশনকে ফের নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অভিযোগ, “ ৩২ লক্ষ নাম উঠেছে ১.২০ কোটির মধ্যে, সেটাও আমি কেস করেছিলাম বলে। বাকি ৫৮ লক্ষ খোলাই হয়নি, এর মধ্যে কিছু বাদ হতে পারে, যারা ডুপ্লিকেট। যারা অ্যাডজুডিকেশনে আছে তাদের নাম তোলা উচিত। এত নাম বাদ দেওয়া হয়েছে যে মানুষ ভোটই দিতে পারবে না। পরে নাম তুলে কী লাভ? আমরা এর বিরুদ্ধে বিচার চাইতে যাব।” জানা গিয়েছে, আজ তাঁর আরামবাগ, বলাগড়ে, শ্রীরামপুরে কর্মসূচি আছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর পায়ে হেঁটেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদে শীর্ষে কোন রাজ্য? পশ্চিমবঙ্গ কত নম্বরে জানুন
তৃণমূল শিবিরের দাবি, আজ ভবানীপুরের এই ‘মিনি ইন্ডিয়া’ মেজাজে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে দিয়েছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আসলে ‘ঘরের মেয়ে’। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলিপুরের রাজপথে এদিনের এই বিপুল জনসমর্থন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের আগে এক বড়সড় জয় ছিনিয়ে নিলেন। মনোনয়ন পেশের মাধ্যমেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, আগামী লড়াইয়ে তিনি এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ।












