সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার (Middle East War) মাঝেই মিললে স্বস্তির খবর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা আগামী দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতের ঘোষণা করেছে। যার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বিরাট পতন (Crude Oil Price Down) দেখা গিয়েছে। হ্যাঁ, কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতা কাটিয়ে আন্তজাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ আবারও স্বাভাবিক হতে চলেছে। তাহলে কি দেশের বাজারে পেট্রোল, ডিজেলের দাম কমবে?
তেলের দামে বিরাট পতন
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে একেবারে চোখে পড়ার মতো। মঙ্গলবার যেখানে দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ১১০ ডলার, বুধবার তো এক ধাক্কায় নেমে আসে ৯৫ ডলারে। এমনকি ডব্লিউটিআই ক্রুড ব্যারেল প্রতি এখন প্রায় ২০ ডলার পর্যন্ত কমে গিয়েছে। বিশেষ করে এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার জেরেই তেলের দামে পতন।
আসলে এর কারণ হল হরমুজ প্রণালীর নিষেধাজ্ঞা পুনরায় তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের সিংহভাগ এই সরু জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। আর গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই পথ কার্যত বন্ধ ছিল, যা তেলের বাজারে আগুন ধরিয়েছিল। তবে তেলের দামের পতনের নেপথ্যে দুটি প্রধান কারণ কাজ করছে। প্রথমত, ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। আপাতত ১৫ দিন কোনও রকম হামলা চালানো হবে না। পাশাপাশি ইরান জানিয়েছে, আমেরিকা হামলা বন্ধ রাখলে তারা দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়ে তেলবাহী জাহাজগুলি চলাচলের অনুমতি দেবে।
উল্লেখ্য, মার্চ মাসে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছিল, যা ইতিহাসের সবথেকে বড় মাসিক উত্থান। এর ফলে ভারত সহ বেশ কিছু দেশের মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু বুধবার তেলের দাম কমতেই বিশ্বজুড়ে ইচিবাচক প্রভাব দেখা যায়। তেলের দাম কমার কারণে মার্কিন ও এশিয় শেয়ারবাজারে একেবারে চোখে পড়ার মতো উত্থান ঘটে। এমনকি বিনিয়োগকারীরা তেলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র থেকে সরে এসে বন্ডে বিনিয়োগ বাড়ায়।
আরও পড়ুন: রাশিয়া অতীত! হরমুজ নিয়ে চিন্তার মাঝেই এই দেশ থেকে তেল আসছে ভারতে
তবে হ্যাঁ, তেলের দাম কমলেও বিশেষজ্ঞরা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না এখনই। কারণ, তাঁদের মতে এটি সাময়িক স্বস্তি। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে মাত্র দুই সপ্তাহের জন্যই। আগামী দিন আবারো যুদ্ধের ঘোষণা হতে পারে। আর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব এবং আমেরিকার শর্তাবলী নিয়ে চূড়ান্ত কোনও রকম সিদ্ধান্তে পৌছনো এখনো সম্ভব হয়নি। দুই সপ্তাহ ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আলোচনা চলবে। তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই ভবিষ্যতের তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার সম্ভাবনা এখনই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।












