শেয়ার বাজারে বিরাট ধস, ক্ষতি হল ৮ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি

Published:

Stock Market Crash

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা কমবে কমবে করে যেন আরও বড় আকার নিল। যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার হরমুজ প্রণালী স্তব্ধ করে দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন। আর তার জেরেই একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ল শেয়ার বাজার (Stock Market Crash)। সোমবার সকাল হতেই 2 শতাংশেরও বেশি পয়েন্ট পড়েছিল সেনসেক্স। নিফটি50 কমেছিল 500 পয়েন্টেরও বেশি। এর ফলে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ এর প্রধান সূচক 23,555 তে নেমে আসে। সেনসেক্স সূচকও 1700 পয়েন্ট কমে গিয়ে 75,865 এর কাছাকাছি চলে যায়। ধাক্কা খায় দালাল স্ট্রিটও।

শেয়ার বাজারে বড় ধস

সোমবার সকালের দিকে ধাক্কা খেয়ে বাজার খুললেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়েছিল দুটি বেঞ্চমার্ক ইন্ডেক্স। এদিকে মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ ইনডেক্স গুলিও যথেষ্ট পতন দেখেছে। ধসে গিয়েছে সেক্টরাল ইনডেক্সও। আইটি সেক্টর থেকে শুরু করে মেটাল, রিয়ালিটি, ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, অটো সহ বিভিন্ন সেক্টর ব্যাপক পতন দেখছে সকাল থেকেই।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই ধাক্কা খেয়েছে বাজার

ইরান এবং আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই ক্রমশ অস্থিরতা বাড়ছে বিশ্ব বাজারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি করে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। পরবর্তীতে তারাই আবার সেই শান্তিতে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চটে গিয়ে হরমুজ থেকে কোনও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করতে দেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট একেবারে খোলাখুলি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

অবশ্যই পড়ুন: IPL ম্যাচ চলাকালীন অগ্রহণযোগ্য আচরণ, শাস্তি পাবেন RCB-র তারকা ব্যাটার?

ট্রাম্পের হুমকির পরই লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। কমবেশি সকলেই জানেন, বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে ধাক্কা খায় শেয়ার বাজার। সোমবারও সেটাই হল। তবে শুধু শেয়ার বাজার ধাক্কা খেয়েছে এমনটা নয়। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পড়েছে সোনার দরও। অনেকেই মনে করছেন, এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে স্টক মার্কেট থেকে শুরু করে সোনা এবং রুপো সবেতেই বড় পতন দেখা দিতে পারে।

তাছাড়াও তেলের দাম বাড়ার কারণে নতুন করে চাপ বেড়েছে টাকার দামে। ডলার ইন্ডেক্সের বৃদ্ধি আমেরিকান ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় দর কমিয়েছে। যা এই মুহূর্তে 93.28 টাকায় দাঁড়িয়ে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, টাকার উপর এমন অতিরিক্ত চাপ শেয়ার বাজারে ধস নামার অন্যতম প্রধান কারণ। স্বাভাবিকভাবেই টাকার উপর চাপ বাড়লে বিভিন্ন ব্যাঙ্কিং সেক্টর গুলির উপরও চাপ আসে। ফলে সেই সব সেক্টরেও বড় পতন দেখা দিয়েছে। সবমিলিয়ে শেয়ার বাজারের ব্যাপক ধসে 8 লাখ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের!

( বিদ্র: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ আর্থিক ঝুঁকি সাপেক্ষ। শুধুমাত্র এই প্রতিবেদনটি পড়ে কোনও স্টকে বিনিয়োগ করবেন না। এই খবরটি মূলত পাঠকদের কাছে শেয়ার বাজার সম্পর্কিত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৈরি। নিয়োগ সংক্রান্ত যেকোনও সিদ্ধান্তের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।)