সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল (Midday Meal Scheme) চালানো নিয়ে এবার বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। কেন্দ্রের কাছে বকেয়া টাকা দাবি করতে গেলে প্রয়োজন পড়ছে খরচের হিসাব বা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট। কিন্তু কেন্দ্রের পোর্টালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নাকি সেই তথ্য আপলোড করতে হিমশিম খাচ্ছে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর (Education Department)। যার ফলে মে মাস থেকে স্কুলগুলোতে মিড ডে মিলের হাড়ি চড়বে কিনা তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
পোর্টালের বিভ্রান্তে থমকে যাচ্ছে কাজ
প্রসঙ্গত, রাজ্যের নিজস্ব অটোমেটেড মেসেজ সিস্টেমের আওতায় জেলা স্তরের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও সেগুলি কেন্দ্রের পোর্টালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তোলা যাচ্ছে না। শিক্ষা দফতরের দাবি, বারবার কেন্দ্রকে জানিয়েও কোনও রকম লাভ হয়নি। সোমবার সকাল পর্যন্ত পোর্টাল কাজ না করার কারণে বিকল্প পদ্ধতিতে ইমেইল এর মাধ্যমে রিপোর্ট পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করেছে স্কুল শিক্ষা দফতর। তবে হ্যাঁ, ম্যানুয়ালি এই বিপুল তথ্য এক জায়গায় করতে প্রচুর সময় নষ্ট হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষা দফতরের হাতে যে পরিমাণ টাকা রয়েছে, তা দিয়ে চলতি এপ্রিল মাসের খরচ কোনও মতে টেনেটুনে চালানো যাবে। কিন্তু মে মাস থেকে নতুন বরাদ্দ না আসলে রান্না বন্ধ হওয়ার জো হবে। এমনকি ১০ এপ্রিলের ডেডলাইন ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে। আর এখন তড়িঘড়ি হিসাব দিলেও মে মাসের আগে কেন্দ্র থেকে টাকা আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। পাশাপাশি বিগত তিন বছরের হিসাব নির্ভুলভাবে জমা না দিলে কোনও ভাবেই পরবর্তী অর্থ ছাড়বে না কেন্দ্র, এমনটাই জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: গরমের মাঝেই দক্ষিণবঙ্গে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস, আগামীকালের আবহাওয়া
তবে স্কুল শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের মতে, তারা এখন চেষ্টা করছেন যে সমস্ত তথ্য গুছিয়ে নিয়ে যাতে কেন্দ্রকে পাঠানো যায়। ইমেইলের মাধ্যমে রিপোর্ট পাঠিয়ে দ্রুত টাকা ছাড়ার আবেদন জানানো হবে। যদিও প্রশাসনিক এই জটিলতার মাসুল যে শেষ পর্যন্ত স্কুল পড়ুয়াদের গুনতে হবে, এমনটাই আঁচ করছে বিশেষজ্ঞরা। এমনকি এ নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষক থেকে শুরু করে অভিভাবকরা।












