বদলাতে হবে না উনুন বা সিলিন্ডার, খরচও কম! LPG-র জায়গা নিতে আসছে DME

Published:

Dimethyl Ether

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইরান এবং আমেরিকার যুদ্ধ (Iran-United States War) আর গোটা বিশ্বজুড়ে উত্তেজনামূলক পরিস্থিতির জেরে বারবার ধাক্কা খাচ্ছে ভারতের জ্বালানি খাত। কারণ, দেশে ধারাবাহিকভাবে এলপিজির সংকট মধ্যবিত্তদের কপালে দিনের পর দিন চাপ ফেলছে। দাম এবং যোগানের ঘাটতিও সমস্যা সৃষ্টি করছে (LPG Crisis)। এমতাবস্থায় সকলে ইন্ডাকশন, ইনফ্রারেড ইত্যাদির দিকে ঝুঁকছে। যদিও এতে আবার খরচ বেশি। তবে ঠিক সেই মুহূর্তে ত্রাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ভারতের নতুন জ্বালানি প্রযুক্তি ডাই মিথাইল ইথার বা ডিএমই (Dimethyl Ether)। বিজ্ঞানীরা একেই ভবিষ্যতের জ্বালানি বলছেন, যা কিনা এলপিজির উপর ভারতের নির্ভরতা চিরতরে ঘুচিয়ে দিতে পারে।

কী এই ডাই মিথাইল ইথার প্রযুক্তি?

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ডিএমই বা ডাই মিথাইল ইথার একটি সিন্থেটিক গ্যাস যা অনেকটা এলপিজির মতোই আচরণ করে। কিন্তু এর সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর উৎস। হ্যাঁ, এলপিজি যেখানে খনিজ তেলের পণ্য হিসেবেই মাটির নিচ থেকে সংগ্রহ করা হয়, ডিএমই সেখানে বায়োগ্যাস বা কৃষিজ বর্জ্য থেকে, এমনকি শহরের জঞ্জাল বা কারখানার ধোঁয়া থেকে সংগ্রহ করা হয়। সিএসআইআর জাতীয় বিজ্ঞান যোগাযোগ ও নীতি গবেষণা সংস্থা জানাচ্ছে, তাদের গবেষকরা এখন এমন এক জ্বালানি তৈরি করছেন, যা ভারতের প্রতিটি রান্নাঘরের জন্যই আদর্শ।

ডিএমই প্রযুক্তি কেন আগামী দিনে প্রতিটি বাড়িতে জায়গা করে নেবে তার পিছনে কয়েকটি কারণও রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—

  • প্রথমত, হাইড্রোজেনের মতো প্রযুক্তিতে দামি উনুন বা সিলিন্ডার দরকার পড়ে। কিন্তু ডিএমই-র ক্ষেত্রে আপনার পুরনো গ্যাস সিলিন্ডার, ওভেন বদলানোর কোনও প্রয়োজন পড়বে না। শুধু এলপিজির বদলে এই ডাই মিথাইল ইথার দিয়ে রান্না করবেন।
  • দ্বিতীয়ত, এলপিজির তুলনায় ডিএমই অনেকটাই বেশি স্বচ্ছ। আর এতে বিষাক্ত ধোঁয়া কিংবা কালিও উৎপন্ন হয় না। যার ফলে রান্নাঘরের দেওয়াল বা বাসনপত্র কালো হওয়ার ভয় থাকবে না। আর পরিবেশ দূষণ তো নেইই।
  • এলপিজির মতোই এটি তরল অবস্থায় মেলে। ফলে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব।

আরও পড়ুন: “সুসম্পর্কের সুবিধা নিয়েছে!” হরমুজে ভারতের জাহাজে হামলার পর মুখ খুলল ইরান

উল্লেখ্য, ভারত বর্তমানে এলপিজির জন্য বিদেশের উপর ৮০ শতাংশ নির্ভরশীল। কিন্তু ডিএমই প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের কয়লা, বর্জ্য এবং খড় থেকেই গ্যাস তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে কেবলমাত্র কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচবে না, বরং যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিয়ে আর কোনও রকম অনিশ্চয়তা থাকবে না। বিজ্ঞানীদের মতে, শুরুতে এলপিজি সিলিন্ডারে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ডিএমই মিশিয়ে সরবরাহ করা যেতে পারে। আর এতে প্রযুক্তিগত কোনও পরিবর্তন ছাড়াই বিদেশি গ্যাসের উপর নির্ভরতা একধাক্কায় ২০ শতাংশ কমিয়ে আনা যাবে। এখন দেখার, আদৌ এই প্রযুক্তি কাজে লাগে কিনা।