সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আবারও শিরোনামে উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh)। ফের বুলডোজার চলবে মসজিদের ওপর? হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। সম্প্রতি একটি নোটিশ ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে যোগী রাজ্যে। অভিযোগ, প্রয়াগরাজে রেলের জমি দখল করে অবৈধভাবে মসজিদ (Prayagraj Masjid) নির্মাণ হয়েছে। এদিকে পাল্টা আক্রমণ করেছে মসজিদ কমিটি। দু’পক্ষের মধ্যে এখন দীর্ঘ টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
এবার মসজিদের ওপর বুলডোজার চালাবে যোগী সরকার?
প্রয়াগরাজ রেল স্টেশনে বড় ধরনের সংস্কার কাজ চলছে। এদিকে রেলের জমি দখল করে থাকা সঙ্গমরমর মসজিদটি শহরের দিকের চলাচল এলাকায় রেলের জমিতে অবস্থিত। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী ভাঙার কাজ সম্পন্ন করার জন্য অবিলম্বে ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬-এর মধ্যে মসজিদ চত্বর খালি করার ব্যবস্থা করতে হবে। উত্তর মধ্য রেলওয়ে, প্রয়াগরাজ থেকে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ওয়াকফ বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা এবং মুসলিম সংগঠনগুলোর সদস্যরা পুরনো কাগজপত্র নিয়ে ছোটাছুটি শুরু করেছেন। রাজ্যের যোগী সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু ধর্মীয় স্থান এবং মাদ্রাসাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ বারবার উঠেছে। এক রিপোর্ট অনুসারে, রেল প্রশাসন প্রয়াগরাজের ঐতিহাসিক মার্বেল মসজিদটিকে বেআইনি ঘোষণা করে মসজিদ কমিটিকে একটি নোটিশ জারি করেছে। নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মসজিদটি রেলের জমিতে নির্মিত এবং ২৭শে এপ্রিলের মধ্যে তা অবশ্যই খালি করতে হবে। এরপর ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আরও পড়ুনঃ হিন্দুত্ব কবিতা বিতর্কে জড়ালেন শ্রীজাত, জারি গ্রেফতারি পরোয়ানা
বিজ্ঞপ্তি জারি রেলের
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, বর্তমানে জংশনটির শহরের দিকের অংশে সংস্কারের কাজ চলছে এবং মসজিদটি এই কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। রেল প্রশাসন সতর্ক করেছে যে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মসজিদটি সরানো না হলে রেল প্রশাসন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নেবে এবং মসজিদটি সরানোর সম্পূর্ণ খরচ ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছ থেকে আদায় করা হবে। এদিকে এই পদক্ষেপের আশঙ্কা করে মসজিদ কমিটি রেলওয়ের দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিটি বলছে, এই নোটিশটি ভিত্তিহীন। মসজিদ কমিটির সচিব এম. এ. পারভেজের মতে, মসজিদটি রেলওয়ের জমিতে নির্মিত নয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে রেলওয়ের সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
Uttar Pradesh: The Railways have issued a notice to vacate the mosque located outside Prayagraj Junction, citing the station’s redevelopment work, while the mosque side claims that it is a waqf-registered and years-old religious site.
In protest against this notice, advocates,… pic.twitter.com/I0k7HFv7CD
— The Muslim Matter India (@TheMuslimMatter) April 21, 2026
এম. এ. পারভেজ আরও স্পষ্ট করেছেন যে, মসজিদটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং এটি ওয়াকফ বোর্ডের মালিকানাধীন। তাঁর মতে, ১৯৫০ সালে মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে যথাযথভাবে নিবন্ধিত হয়েছিল। এটিকে ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগত গুরুত্বসম্পন্ন একটি ভবন হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন যে, ভারত সরকারের তৎকালীন কেন্দ্রীয় উপ-রেলমন্ত্রী শাহনওয়াজ খানের প্রচেষ্টায় ১৯৬১ সালে এটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। এমনকি মসজিদ কমিটি রেলের এই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। এখন দেখার আগামী দিনে কী হয়।










