সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রিতে হবে ভারতের রাজত্ব! ১.২ লক্ষ কোটির মেগা মিশন কেন্দ্রের

Published:

Semiconductor Manufacturing India

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে (Semiconductor Manufacturing India) বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর তালিকায় এবার কোমর বেঁধে নাম লেখাতে নেমেছে ভারত। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক আগামী মে মাসের মধ্যেই ইন্ডিয়ান সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০ (Indian Semiconductor Mission 2.0) চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বেশ কিছু সূত্র অনুযায়ী খবর, এই প্রকল্পের জন্য আনুমানিক ১ লক্ষ কোটি থেকে ১.২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করার পরিকল্পনা করেছে ভারত সরকার।

প্রথম পর্যায়েই বিরাট লাফ

২০২১ সালে যখন সেমিকন্ডাক্টর মিশনের প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছিল, তখন ৭৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্র সরকার। আর এবার সেই অংককে ছাপিয়ে লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রকের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রস্তাব। বিশ্বজুড়ে চলা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থার সংকটের কথা মাথায় রেখে এবার মেগা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

কী কী বিশেষত্ব থাকছে এই নতুন প্রকল্পের?

উল্লেখ্য, শুধুমাত্র চিপ তৈরি বা ডিজাইনে নয়, বরং নতুন মিশনের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে। প্রথমত, চিপ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল এবং বিশেষ যন্ত্রপাতি উৎপাদনের উপরে জোর দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পগুলি ও কেমিক্যাল নির্মাতা সংস্থাগুলিকে এই মিশনের আওতায় আনা হবে। তৃতীয়ত, নতুন ডিজাইন লিংকড ইনসেনটিভের মাধ্যমে বিদেশি সংস্থাগুলিকে ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে জোট বেঁধে গবেষণা আর উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: জাহাজে ফের হামলা হলে ইরানকে পাল্টা দেবে ভারতও? হরমুজ নিয়ে বড় বয়ান নৌসেনার

সরকারের মূল লক্ষ্য হল—২০৩০ সালের মধ্যেই ভারতের অভ্যন্তরীণ সেমিকন্ডাক্টর চাহিদার আনুমানিক ৭৫ শতাংশ দেশীয় উৎপাদন থেকে মেটানো, যার ফলে বিদেশের উপর নির্ভরতা কমবে আর ভারতে অন্তত ৫০টি নতুন ডিপ-টেক সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ফার্ম তৈরি করা হবে। যেহেতু স্মার্টফোন থেকে শুরু করে ল্যাপটপ, গাড়ি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রতিটি ক্ষেত্রে সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য, আর ভারত বর্তমানে এই চিপ তাইওয়ান ও চিন থেকে আমদানি করে থাকে, তাই এই ১.২ লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প সফল হলে ভারত চিপ উৎপাদন ও ডিজাইনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশে পরিণত হবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।