অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারত মহাসাগরের (Indian Ocean) তলদেশে বিশাল এক খোঁজ করলেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্বের বৃহত্তম ‘তিমির সমাধিক্ষেত্র’ (Whale Graveyard) আবিষ্কৃত হয়েছে এখন। চীনা বিজ্ঞানীদের এই ঐতিহাসিক আবিষ্কার থেকে জানা গেছে যে, লক্ষ লক্ষ বছর পুরোনো তিমির কঙ্কালে ভরা এই বিস্তৃর্ণ এলাকাটি এখন গভীর সমুদ্রে প্রাণী ও নতুন প্রজাতির আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নাল, ‘নেচার’ (Nature)-এ প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রকাশ করেছে যে, ভারত মহাসাগরের গভীরে আবিষ্কৃত তিমির সমাধিক্ষেত্রটি পৃথিবীর গভীরতম এবং এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাচীন। এর মধ্যে কিছু জীবাশ্মের বয়স প্রায় ৫৩ লক্ষ বছর।
ভারত মহাসাগরের গভীরে বিজ্ঞানীদের অভিযান
রিপোর্ট অনুযায়ী, চীনা বৈজ্ঞানিকরা ‘ফেনদৌজে’ নামের একটি ছোট ডুবোজাহাজ ব্যবহার করে দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরে এই অভিযান চালিয়েছেন। এই সাবমেরিনটি গোটা ২০২৩ সালে জুড়ে মোট ৩২ বার গভীর সমুদ্রে ডুব দেয়। আর প্রতিটি অভিযান থেকে পাওয়া তথ্য এখন নেচার পত্রিকার মাধ্যমে সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। তিমির এই অতিপ্রাচীন কঙ্কালগুলো পরিচিত অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমে ভারত মহাসাগরের ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। সমুদ্রের তলদেশের এই অঞ্চলটি ‘ডায়ামান্টিনা জোন’ (Diamantina Zone) নামে পরিচিত।
রোবটিক হাতের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা সমুদ্রপৃষ্ঠের ৭ কিলোমিটার গভীর থেকে ৫০০ টিরও বেশি তিমির হাড়ের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এত পরিমাণ কঙ্কাল বিস্মিত করেছে বিজ্ঞানীদের। তারা মনে করছেন ওই অঞ্চল জুড়ে প্রায় ১ কোটিও বেশি তিমির জীবাশ্ম রয়েছে।
হোয়েল ফল (Whale Fall) কী?
যখন একটি তিমি মারা যায় তখন স্বাভাবিকভাবেই তার বিশাল দেহটি জলের নীচে ডুবে যায়। একেই বলে হোয়েল ফল। এই দেহগুলিই ঠান্ডা, অন্ধকার পরিবেশে থাকা সামুদ্রিক প্রাণীদের খাদ্যের উৎস হয়ে ওঠে। ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলটি তিমিদের শিকার ধরার একটি পছন্দের জায়গা হয়ে থাকতে পারে। তাছাড়া সমুদ্রের ওই অংশে একটি ‘ভি’ (V) আকৃতির খাদ রয়েছে, যার ফলে মৃতদেহগুলি সরাসরি তলদেশে গিয়ে একত্রিত হয়েছে।
এই গবেষণাপত্রের সহ-লেখক পেং ঝোউ জানিয়েছেন যে, স্বচক্ষে এই বিশাল ও প্রাচীন তিমির সমাধিক্ষেত্র দেখাটা সত্যিই তার কাছে এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা ছিল। সমুদ্রের নিষ্প্রাণ, অন্ধকার ও ঠান্ডা তলদেশে এই তিমির কঙ্কালগুলোকে ঘিরে শ্বাস নিচ্ছিল একটি প্রাণবন্ত বাস্তুতন্ত্র।
আরও পড়ুনঃ কলকাতা-ঋষিকেশ ট্রেনের রুটে বড় পরিবর্তন, বিজ্ঞপ্তি জারি পূর্ব রেলের
লক্ষ লক্ষ বছরের প্রাচীন এই কঙ্কালগুলোর মধ্যে বসবাসকারী অনেক বিচিত্র প্রাণীকে আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে কিছু প্রজাতি সম্ভবত বিজ্ঞানের কাছেও নতুন। তিমির সমাধিক্ষেত্রে দেখা গেছে অনন্য প্রজাতির জেলিফিশ, ব্রিটল স্টার। এছাড়াও দেখা মিলেছে হাড়খেকো কৃমি এবং বাইভালভ নামের এক মোলাস্কের। জীবাশ্মগুলির মধ্যে একটি বিলুপ্ত তিমির প্রজাতিকেও খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যার নিদর্শন আগে কখনও পাওয়া যায়নি।










