‘সিংহম’ অফিসারের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা, যা বললেন বিচারপতি

Published:

Ajay Pal Sharma

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিন গড়ালেই দ্বিতীয় দফার নির্বাচন বাংলায় (West Bengal Election 2026)। তবে চর্চায় উঠে আসছেন সেই পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা (Ajay Pal Sharma)। উত্তরপ্রদেশের দুঁদে আইপিএস অফিসারের মেজাজ দেখে কেউ কেউ তাকে দাবাং, আবার কেউ কেউ তাকে সিংহম বলে ডাকছেন। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডেরা ডায়মন্ড হারবার ও পার্শ্ববর্তী ফলতায় তাঁর সক্রিয়তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল। আর এমতাবস্থায় তাঁর কাজের ধরনকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছিল রাজ্যের শাসক দল।

অভিযোগ, সোমবার ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে গিয়ে কার্যত হুমকি দিয়ে এসেছিলেন এই আইপিএস অফিসার। তাঁর পরিবারকে তিনি সতর্ক করেন যে, ভোটারদের উপর যেন কোনও রকম চাপ সৃষ্টি না করা হয়। আর এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই জাহাঙ্গীর খান পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছোড়েন। এর রেশ ধরেই মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাকারীদের অভিযোগ, অজয় পাল শর্মা ভোটার এবং প্রার্থীদেরকে ভয় দেখাচ্ছেন।

কী বলল আদালত?

হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ দ্বিতীয় দফার ভোট না মেটা পর্যন্ত নির্বাচনের দায়িত্ব থাকা কোনও আধিকারিকের বিষয়ে বা কাজে কোনও হস্তক্ষেপ করতে পারবে না আদালত। মামলা দায়েরের সঠিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ার কারণেই শুনানি হয়নি। যার ফলে সিংহম অফিসারের হাত বেঁধে দেওয়ার যে চেষ্টা করেছিল শাসক দল, সেই আশায় জল।

না বললেই নয়, মঙ্গলবার সকালেও ফলতায় পরিচিত মেজাজে দেখা যায় অজয় পাল শর্মাকে। তিনি জাহাঙ্গীরের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছেই হুংকার দিতে থাকেন। এতে তৃণমূল কর্মীরা আইপিএস-র কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তবে অজয় পাল শর্মার গাড়ি বেরিয়ে যেতে পারলেও পিছনে থাকা সিআরপিএফের গাড়িগুলি আটকে দেয় জনতা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়। এমনকি অনেকেই এই ঘটনার সঙ্গে সন্দেশখালির অপ্রীতিকর পরিস্থিতির তুলনা করছেন।

আরও পড়ুন: আরও উন্নত হবে ভারতের আকাশসীমা, চতুর্থ S-400 পাঠাল রাশিয়া

এদিকে তৃণমূলের নেতা জাহাঙ্গীর খান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি কাউকেই পরোয়া করেন না। অজয় পাল সিংহম হলে তিনি পুষ্পা। আবার অন্যদিকে অফিসার পিছু হাটার পাত্র নন। উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট এই পুলিশদ অফিসার বাংলার ভোটে একই রণকৌশল প্রয়োগ করছেন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।