দিনে ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যায় চিনের, সেই পথেই ৩ যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন ভারতের!

Published:

Great Nicobar Project

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মালাক্কা প্রণালী চিনের কাছে চিরদিনই গুরুত্ব পেয়ে এসেছে (Great Nicobar Project)। একটা সময় ড্রাগন এই প্রণালীতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চেয়েও পারেনি। এদিকে এই জলপথকে উপেক্ষাও করতে পারছে না চিন। আসলে এই মালাক্কা প্রণালী দিয়েই বিপুল পরিমাণ তেল পৌছয় চিনে। এবার সেই মালাক্কা প্রণালীতেই ভারত নিজের কৌশলগত অবস্থান পোক্ত করছে। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে গ্রেট নিকোবর প্রকল্প। তাতে ড্রাগনের কপালে যে চিন্তার ভাঁজ বেড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কেন গ্রেট নিকোবর প্রকল্প চিনের জন্য চিন্তার?

2025 সালে চিনের মোট তেল আমদানির অন্তত 80 শতাংশ এসেছিল মালাক্কা প্রণালী দিয়ে। যার বার্ষিক মূল্য 312 বিলিয়ন ডলার। মালাক্কা প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ 2.8 কিলোমিটার চওড়া। যার মধ্যে দিয়ে আনুমানিক 3.5 ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের বৈশ্বিক বাণিজ্য হয়ে থাকে। চিনের মোট সামুদ্রিক পরিবহনের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ এই প্রণালীর মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করে। তাহলেই বোঝা যাচ্ছে, চিনের জন্য মালাক্কা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। রিপোর্ট বলছে, প্রতিদিন চিনের 15 মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই প্রণালীর মধ্যে দিয়ে যায়।

এখন প্রশ্ন, ভারতের গ্রেট নিকোবর প্রকল্প কেন চিনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে? ভারত সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। 700 কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই দ্বীপ মালাক্কা প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত। আর এখানে ভারতের গ্রেট নিকোবর প্রকল্প দক্ষিণ প্রান্ত সিঙ্গাপুর, পোর্ট কিং এবং কলম্বোর খুব কাছে অবস্থিত। এদিকে এই দ্বীপগুলির নিকটবর্তী সমুদ্রপথে চিনের প্রায় 60 শতাংশ বাণিজ্য হয়। আর এই বাণিজ্য পথগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা চিনের জন্য আদতেই উদ্বেগের। কাজেই ভারত যে গ্রেট নিকোবর প্রকল্প হাতে নিয়েছে তা আদতে চিনকে ভাতে মারবে বলেই মনে করছেন অনেকে! ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই প্রকল্প ড্রাগনের জন্য উদ্বেগের।

ফার্স্ট পোস্টের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, 2019 সালে আন্দামান এবং নিকোবর কমান্ডকে তার সামরিক পরিকাঠামো উন্নত করার জন্য 5,650 কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়। এবার সেই কমান্ডের অধীনে পোর্ট ব্লেয়ারে আইএনএস উৎকর্ষ, গ্রেট নিকোবারে আইএনএস বাজ এবং উত্তর আন্দামানে আইএনএস কোহাসা মোতায়েন করেছে ভারত। সূত্রের খবর, ভারতের এই তিন যুদ্ধজাহাজ মালাক্কা প্রণালীর নিকটবর্তী অঞ্চলে হওয়া কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে পারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা ড্রাগনের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে!

সামুদ্রিক আধিপত্য বাড়াবে ভারত!

সম্প্রতি ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভাদুরিয়া কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর করা এক মন্তব্যের প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পকে গেম চেঞ্জার বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের জন্য এই সমুদ্রপথ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। তাছাড়াও ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রাক্তন এয়ার চিফ মার্শালের দাবি, ভারত এই বিশেষ প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে সমুদ্রপথে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে চাইছে।

সংবাদ সংস্থা ANI কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, রাকেশ কুমার সিং জানিয়েছেন, “আমি রাহুল গান্ধীর বিবৃতিতে অবাক হয়েছি। এই প্রকল্পটিকে ভালভাবে আগে বোঝা জরুরি। এই বন্দর তৈরি হলে এটি মালাক্কা প্রণালী থেকে মাত্র 150 কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রাখবে। এই মালাক্কা চিনের 75 শতাংশ জ্বালানির বাণিজ্য পথ। এর ফলে ভারত সমুদ্র ও আকাশ পথে নিজেদের আধিপত্য উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়াবে।”

অবশ্যই পড়ুন: মমতার নিশানায় গুজরাটি যুবক, কে সে? জানা গেল পরিচয়

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের সমালোচনা করেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য ছিল, কেন্দ্রের গ্রেড নিকোবর প্রকল্প দেশের প্রাকৃতিক ও আদিবাসী ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় কেলেঙ্কারি। এই গোটা বিষয়টিকে দেশের সবচেয়ে বড় এবং জঘন্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন রাহুল। শুধু তাই নয়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে একটি সম্পাদকীয়তে কংগ্রেসের সংসদীয় চেয়ারপার্সন তথা রাহুল গান্ধীর মা সোনিয়া গান্ধীও এই প্রকল্পকে দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসীদের শোষণ এবং সেখানকার জনগোষ্ঠী ও বাস্তুতন্ত্রের প্রতি হুমকি বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।