সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এদিকে জয়ের আনন্দে ভাসছে বঙ্গবাসী, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে ডলারের (United States Dollar) ক্রমাগত শক্তি বৃদ্ধি আর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির হারকে দশের মুখে পড়েছে ভারতীয় টাকা (Indian Rupee)। সোমবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় ডলারের তুলনায় টাকার দাম ৩৯ পয়সা কমে ৯৫.২৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তর। এর আগে কখনও ভারতীয় মুদ্রা এতটা নিচে নামেনি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা আর তেলের দাম বাড়ার কারণেই এই পতন।
কেন এত রেকর্ড পতন?
আসলে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা টাকার এই চরম পতনের পেছনে চারটি কারণকে দায়ী করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বর্তমানে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর ভারত তার প্রয়োজনের সিংহভাগ তেল আমদানি করে। তাই তেলের দাম বাড়লে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং টাকার দাম কমতে থাকে। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যার ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের উপরে বেশি ভরসা করছেন।
তৃতীয়ত, শেয়ারবাজারে তথ্য অনুযায়ী বিদেশী বিনিয়োগকারীরা গত বৃহস্পতিবার প্রায় ৮৪৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে টাকা তুলে নিয়েছেন আর বিদেশী পুঁজি বেরিয়ে যাওয়ার কারণে টাকার উপরে চাপ পড়ছে। এছাড়া বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার তুলনায় ডলার কতটা শক্তিশালী তা মাপা হয় ডলার ইন্ডেক্স দিয়ে। তবে সোমবার এই ইন্ডেক্স ০.১১ শতাংশ বেড়ে ৯৮.২৬ পয়েন্টে পৌঁছে গিয়েছে।
আরও পড়ুন: সস্তার জনপ্রিয় এই রিচার্জ প্ল্যান বন্ধ করে দিল Jio
সাধারণ মানুষের উপরে কী প্রভাব পড়বে?
টাকার দাম কমার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটেই। কারণ, বিদেশ থেকে আমদানি করা জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভোজ্য তেল বা পেট্রোল–ডিজেলের দাম বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনোর বা ভ্রমণের খরচ বাড়বে। আর স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের মতো ইলেকট্রনিক্স জিনিসের দামও অনেকটাই বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।










