সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার জন্য এবার মধ্যপ্রদেশের বিন্ধ্যাচল পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি হচ্ছে রাজ্যের দীর্ঘতম রেল টানেল (Rail Tunnel)। ইন্দোর-বুধনি রেল প্রকল্পের আওতায় দেওয়াস জেলার কমলাপুরের কাছে এই সুরঙ্গটি নির্মাণের কাজ একেবারে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে (Indian Railways)। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে তৈরি এই সুরঙ্গটি মধ্যপ্রদেশের শিল্প এবং যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
৮.৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সুরঙ্গ
প্রথমত, ইন্দোর–বুধনি রেল প্রকল্পের সবথেকে আকর্ষণীয় অংশ হল এই ৮.৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলটি। এর কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল—এই সুরঙ্গের উপর দিয়ে একটি ন্যাশনাল হাইওয়ে থাকবে, যা দিয়ে গাড়ি চলবে। আর তার ঠিক নিচ দিয়ে পাহাড়ের গভীরে ছুটবে ট্রেন। পাশাপাশি সাধারণত সুরঙ্গের ভেতরে ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু উন্নত প্রযুক্তির কারণে এই টানলে ট্রেন ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে চলতে পারবে। আর সুরঙ্গটি নির্মাণে পলিমার এবং পলিথিন লেয়ারের বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা জলরোধী এবং দীর্ঘস্থায়ী।
এদিকে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইন্দোর এবং জব্বলপুরের মধ্যে রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৬৮ কিলোমিটার কমে যাবে। যার ফলে যাত্রীদের অন্তত ২ ঘণ্টা মূল্যবান সময় বাঁচবে। আর রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড এই প্রকল্পের কাজ তদারকিও শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: আচমকাই নোটিশ নবান্নর, কর্মীদের বড় আদেশ
জানিয়ে রাখি, এই বিশাল প্রকল্পের মোট দূরত্ব ২০৫ কিলোমিটার, যার মধ্যে নতুন ১৮টি রেলওয়ে স্টেশন তৈরি করা হবে। আর প্রকল্পে ১৮টি বড় বড় সেতু, ৯৯টি ছোট সেতু এবং ১৩৮ আন্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। যার জন্য আনুমানিক ৩২৬১.৮২ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যেই প্রকল্পটি সম্পন্ন করার। আর এটি চালু হলে মধ্যপ্রদেশের প্রধান শিল্পতালুকগুলি যেমন ইন্দোর, ভোপাল, জব্বলপুর এবং গোয়ালিয়র সরাসরি রেলপথের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং পণ্য পরিবহন আরও উন্নত হবে।










