পুনর্গণনাতেই বাজিমাত, বাংলায় আরও একটি আসন বাড়ল বিজেপির

Published:

Piyush Kanodia

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ১০০ অথবা ১৫০ নয়, বাংলায় এবার ২০০ পার করে ক্ষমতায় এল বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। জায়গায় জায়গায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে অসংখ্য আসন কেড়ে নিয়েছে বিজেপি। গোহারা হেরেছেন তৃণমূলের অসংখ্য মন্ত্রী। এমনকি নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও হেরে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই আবহে ফের আরও একটি আসন কেড়ে নিল বিজেপি। জানা গিয়েছে, রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রের ভোটের লড়াইয়ে তৃণমূল প্রার্থী তাপস চ্যাটার্জীকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেলেন বিজেপি প্রার্থী পীযূষ (Piyush Kanodia)। ৩০৯ ভোটে জিতলেন তিনি।

একটি আসন বাড়ল বিজেপির

রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ সোমবার, রাজারহাট-নিউ টাউন বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়া পুনর্গণনা চেয়েছিলেন। ১৭ রাউন্ড শেষে ৩২৩ ভোটে যখন তৃণমূলের প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায় এগিয়ে, তখন বিজেপি প্রার্থী পীযূষ পুনর্গণনা চাইলেন বেশ কয়েকটি বুথে। আর সেই অনুযায়ী ফের শুরু হয় কাউন্টিং। এদিকে পুনরায় ভোট গণনা হতেই খেলা ঘুরে যায় তৃণমূলের। শেষ মুহূর্তে ৩০৯ ভোট নিয়ে তাপসের গলা থেকে জয়ের মালা ছিনিয়ে নিয়ে যান বিজেপির পীযূষ। বাড়ে গেরুয়া শিবিরের একটি আসন।

কত ভোট পেলেন বিজেপির প্রার্থী পীযূষ?

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, রাজারহাট-নিউটাউন আসনে বিজেপির প্রার্থী পীযূষ কানোড়িয়ার ঝুলিতে গিয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৬৪ ভোট। এবং তৃণমূল কংগ্রেসের তাপস চট্টোপাধ্যায়ের ঝুলিতে রয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ২৫৫টি ভোট। এই আসনে আবার সিপিএমের সপ্তর্ষি দেব পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৪৬ ভোট। কংগ্রেসের শেখ নিজামউদ্দিন পেয়েছন ১৮৮৫ ভোট। অর্থাৎ, কংগ্রেস ততটা না কাটলেও, সিপিএম অনেক ভোট টেনেছে এই আসনে। এদিকে গেরুয়া ঝড়ে বেসামাল ঘাসফুল শিবির। একের পরে এক হেভিওয়েট প্রার্থীর ভরাডুবি প্রমাণ করে দিয়েছে যে বাংলার মানুষ বদলা নয় বদলকেই মনে প্রাণে বেছে নিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘এক উন্নত ও নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ’ অঙ্গীকার শুভেন্দুর

প্রসঙ্গত, তৃণমূলের পরাজিত মন্ত্রীদের তালিকায় অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে ব্রাত্য বসু, পুলক রায় এবং মানস ভুঁইয়ার মতো হেভিওয়েট নাম রয়েছে। বাদ যাননি শশী পাঁজা, সুজিত বসু, স্নেহাশিস চক্রবর্তী বা ইন্দ্রনীল সেনের মতো দাপুটে নেতারাও। মুহূর্তের মধ্যে গেরুয়া ঝড়ে তৃণমূলের ১৫ বছরের রাজত্ব চুরমার হয়ে গেল। আর এবার আরও একটি আসন কমে যাওয়ায় রীতিমত শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও তাপস চট্টোপাধ্যায় মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন না, তবে রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতা ও দাপট বেশ ছিল। কিন্তু সবটাই এবার ভেঙে গেল।