বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: কলকাতার মেসি কাণ্ড ভুলে যাননি কেউই। ফুটবলের রাজপুত্র (Lionel Messi) শহরে পা রাখতেই যেমন একটা উষ্ণ মেজাজ ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা কলকাতায়, আর্জেন্টিনাইন ফুটবলারের প্রস্থানের সময় ধরা পড়েছিল ঠিক বিপরীত ছবি। পছন্দের ফুটবলারকে দেখতে না পেয়ে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে কার্যত তাণ্ডব চালিয়েছিলেন দর্শকরা। যে ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিলেন বাংলার ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্ত (Satadru Dutta)। সোমবার, বঙ্গে পরিবর্তনের হাওয়া উঠতেই অতীত স্মরণ করে মেসি কাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন শতদ্রু।
তৃণমূল হারতেই মুখ খুললেন শতদ্রু দত্ত
গত 13 ডিসেম্বর, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হওয়া অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। প্রিয় তারকা লিওনেল মেসিকে দেখতে দর্শকদের পথ আটকে রেখেছিলেন একাধিক অপরিচিত ব্যক্তি। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও। সবমিলিয়ে, ব্যাপক হই হট্টগোলের মধ্যে গাদাগুচ্ছের টাকা খরচ করে মেসিকে দেখতে এসেও প্রিয় তারকাকে দেখতে পাননি দর্শকরা। আর সেটাই শেষ পর্যন্ত তাঁদের মনে ক্ষোভের উদ্রেক করে। যেই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই সল্টলেক স্টেডিয়ামে চলে ব্যাপক ভাঙচুর। ফেস্টুন থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের চেয়ার ভেঙে একেবারে চুরমার করে দেন সমর্থকরা।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের এমন বিশৃঙ্খলার পরই রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গঠন করা হয়েছিল বিশেষ কমিটি। পরবর্তীতে সেই কমিটির তত্ত্বাবধানেই শুরু হয় মেসি কান্ডের তদন্ত। এদিকে দমদম বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় বাঙালি ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্তকে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ বেশ কিছুদিন জেল যাত্রা হয়েছিল তাঁর। এবার সেই ঘটনায় অতীত স্মরণ করে মুখ খুললেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে কয়েকটি পোস্ট এবং স্টোরিতে সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসির কয়েকটি ভিডিও শেয়ার করে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে উদ্দেশ্য করে শতদ্রু লিখেছেন, “বারবার বারণ করেছিলাম এখানে ছবি তোলাবেন না। কিন্তু দাদাগিরি করে তুলেছিল। এবার দেখ কেমন লাগে। সব হিসেব দিতে হবে।”
অবশ্যই পড়ুন: ৭.৬৩ কোটির IPL প্লেয়ার বাংলার নির্বাচনে জয়ী হলেন, চেনেন?
শতদ্রু আরেকটি স্টোরিতে নিজের একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “আমার মুখে কাপড় পরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলে ক্রিমিনালদের মতো যাতে আমি কথা বলতে না পারি। কর্ম কাউকে ছাড়ে না। এবার বদলা নেব..” শুধু শতদ্রু দত্ত নন, ইতিমধ্যেই বিজেপির বহু কর্মী সমর্থক এই বাঙালি ক্রীড়া সংগঠককে ব্যক্তিগতভাবে মেসেজ করে লিখেছেন, “কর্ম কাউকে ছাড়ে না। আজ এটা তোমার জয়। আমরা কিছুই ভুলে যাইনি। যারা বেশি বাড়াবাড়ি করবে তাদের পতন অনিবার্য!” তৃণমূল, বিশেষ করে টালিগঞ্জ আসন থেকে অরূপ বিশ্বাস হারতেই কেউ কেউ আবার শতদ্রুকে মেসেজ করে লিখছেন, “আমরা বদলা নিয়েছি দাদা। তোমার উপর যা অন্যায় হয়েছে আমরা তার বদলা নিলাম।”










