সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: হারিয়েছেন গদি। অথচ তিনি পদ ছাড়তে নারাজ। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না তিনি, এমনটাই সংবাদমাধ্যমকে জানালেন মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee)। তাহলে এখন উপায় কী রয়েছে? রাজ্যপাল কোন পথ অবলম্বন করতে পারেন? এমনিতেই বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) ফলাফল বলছে, ২০৭ আসনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ করেছে বিজেপি। পরাজিত হয়েছে ১৫ বছরের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু জোরজবরদস্তি করে তো আর ক্ষমতায় থাকা যায় না। সেক্ষেত্রে রাজ্যপালকেই যা করার করতে হবে।
কী রয়েছে বিকল্প উপায়?
আজ বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান যে, “আমি হারিনি। আমাকে জোর করে হারানো হয়েছে। তাহলে আমি কেন রাজভবনে ইস্তফা দিতে যাব?” এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, যদি মমতা ব্যানার্জি সত্যিই ইস্তফা না দেন তাহলে নতুন সরকার কীভাবে গঠন করবে বিজেপি? প্রশাসন কোন পথে এগোবে? এমনিতেই আগামী ৭ মে পর্যন্ত রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ। তার মধ্যেই ইস্তফা দিতে হবে মমতাকে। তবে যদি তাও তিনি ইস্তফা না দেন তাহলে রাজ্যপালের হাতে রয়েছে একাধিক উপায়।
প্রথমত, রাজ্যপাল সরাসরি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে পদ থেকে বরখাস্ত করে দিতে পারেন। প্রথমে তিনি ভালোভাবে মমতা ব্যানার্জিকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। যদি তাতেও তিনি সুর নরম না করেন তাহলে সরাসরি তাঁকে বরখাস্ত করে দিতে পারেন। রাজভবন থেকে একটি অধ্যাদেশ জারি করেই রাজ্যপাল এই কাজ সেরে নিতে পারেন। তবে রাজ্যপালের কাছে রয়েছে আরও বিকল্প উপায়। দ্বিতীয়ত, তিনি সরাসরি বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ না হয় তাহলে মুখ্যমন্ত্রীকে পদ ছাড়তেই হবে।
আরও পড়ুন: ‘আমার গায়ে রাজনৈতিক রঙ লাগাবেন না’, অনুরোধ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের
এছাড়াও একাধিক উপায় রয়েছে রাজ্যপালের হাতে। তৃতীয়ত, তিনি সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দিতে পারেন। আর যদি একবার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয় তাহলে এমনিতেই সব ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে চলে যাবে। সেক্ষেত্রে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এমনিতেই গদিচ্যুত হবেন। এছাড়াও রাজ্যপাল মমতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তিনি আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়ে পদ ছাড়তে বাধ্য হবেন। এখন দেখার মমতা ব্যানার্জি আদৌ স্বেচ্ছায় নিজের পদ ছাড়েন কিনা।










