বঙ্গে পালাবদল, এবার ভারত-বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তি নিয়ে কাটবে জট?

Published:

Teesta Barrage Agreement

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: তৃণমূল সরকারের পতন ঘটিয়ে প্রথমবারের জন্য বাংলার সিংহাসনে বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (Teesta Barrage Agreement)। 207টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। আর তার ঠিক আগেই, বিজেপির এই জয় নিয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা তথা ওপার বাংলার তথ্য সচিব আজিজুল বড়রী হেলাল। তাঁর কথায়, “আমি হতবাক যে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরেও তৃণমূল কংগ্রেস এত বড় ব্যবধানে পরাজিত হল।” বিজেপির এমন জয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। সেই সাথে মুখ খুলেছেন তিস্তা চুক্তি নিয়েও।

ভারত-বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তি নিয়ে বড় আপডেট

বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা আজিজুল ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেন, “তিস্তা চুক্তির জন্য পশ্চিমবঙ্গের এতদিনের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। অতীতে আমরা দেখেছি যে তিস্তা ব্যারেজ স্থাপনের রাস্তাটা মমতা ব্যানার্জী কতটা কঠিন করে তুলেছিলেন! তবে আমরা আশা রাখছি শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি বাংলার ক্ষমতায় আসতেই বাংলাদেশের সরকার এবং নরেন্দ্র মোদির সরকার তিস্তা ব্যারেজ চুক্তিটি গুরুত্ব সহকারে দেখবে এবং গোটা প্রক্রিয়াটি সহজ হবে।”

বলাই বাহুল্য, তিস্তা ব্যারেজ চুক্তি বলতে হিমালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম প্রধান নদী তিস্তার জলসম্পদ নিয়ে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হওয়ার কথা। এই বিশেষ চুক্তির অধীনে বাংলাদেশকে জল সরবরাহ করবে ভারত! আসলে ভারত এবং বাংলাদেশের সেচ, কৃষিকাজ এবং জীবিকার জন্য তিস্তার জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে এই নদীর জল ব্যবহার করেই উভয় দেশে কৃষিকাজ হয়।

এক্ষেত্রে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে যে প্রস্তাবিত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা তার প্রধান লক্ষ্যই হলো, তিস্তার জল বন্টন নিশ্চিত করা। আসলে এই তিস্তার জল যাতে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাঠানো যায় সেটাই নিশ্চিত করবে ভারত। একই সাথে ভারতকে বাংলার কৃষিকাজে জলের চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা করার স্বার্থেও তিস্তার জল ব্যবহার করতে হবে।

যদিও উভয় দেশই তিস্তার জল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। ভারত গজলডোবায় এবং বাংলাদেশ ডালিয়ায় একটি বাঁধ নির্মাণ করেছে ইতিমধ্যেই। কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তীব্র বিরোধিতার কারণেই ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি! সব মিলিয়ে অনেকেই মনে করছেন, বঙ্গে পালাবদলের ফলে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তার জল বন্টন চুক্তি সফলভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে।

অবশ্যই পড়ুন: বদলাবে ভাগ্য! KKR-র অধিনায়ক হবেন হার্দিক পান্ডিয়া?

উল্লেখ্য, সম্প্রতি চিন সফরের আগে ওপার বাংলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তিস্তার জল সংকটকে সামনে রেখে বাঁচা মরার প্রশ্নে জলের জন্য বাংলাদেশ আর ভারতের উপর নির্ভর করে বসে থাকতে রাজি নয়। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা তিস্তার জল বন্টন চুক্তি নিয়ে ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ বা উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে বিকল্প খুঁজছে ঢাকা।