‘১৭ কোটি বাংলাদেশি পাশে আছে, পশ্চিমবঙ্গকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করুন’ মমতাকে আরজি

Published:

West Bengal

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর নির্বাচনে বিজেপির হড়পা বানে রীতিমত কাবু তৃণমূল কংগ্রেস। ২০০-র বেশি আসন জিতে মুহূর্তের মধ্যে মমতার ১৫ বছরের শাসন গুড়িয়ে দিয়েছে মোদী সরকার। আর তাই নিয়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি রাজ্য জুড়ে। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্বাচনী পরাজয়ের পর ঘটল আরেক ঘটনা। বাংলাদেশী জামাত নেতা (Jamaat Leader) মহম্মদ নুরুল হুদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন। পাশাপাশি স্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) ঘোষণার আর্জি। যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র উত্তেজনা।

মমতার উদ্দেশে বাংলাদেশি নেতার বিশেষ বার্তা

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে বাংলাদেশ জুলাই যোদ্ধা সংসদ নামে সংগঠনের নেতা মহম্মদ নুরুল হুদাকে বলতে শোনা গিয়েছে, “ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাচ্ছি। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছে ১৭ কোটি বাংলাদেশি। দিল্লির আধিপত্য থেকে প্রতিটি রাজ্যের মুক্ত হওয়া প্রয়োজন এবং প্রত্যেক রাজ্যের নিজস্ব পরিচয় ও স্বাধীনতা থাকা উচিত।” তাঁর দাবি পশ্চিমবঙ্গকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। শুধু তাই নয়, জামাত নেতা মমতাকে ইস্তফা না দিয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ভিডিও নিয়ে শোরগোল রাজনৈতিক মহলে

সূত্রের খবর, মহম্মদ নুরুল হুদা নামে এই ব্যক্তি কট্টর জামাতপন্থী নেতা বাংলাদেশের। বাংলাদেশ জুলাই যোদ্ধা সংসদ নামে একটি সংগঠনও চালায়। স্বাভাবিকভাবেই জামাত নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই রীতিমত শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এদিকে এই ধরনের বক্তব্যকে বিজেপি নেতৃত্ব দেশবিরোধী ও বিপজ্জনক বলে মনে করছেন। তারা স্পষ্ট বলেছে বাংলাদেশের জামাত নেতা কেন এমন বিবৃতি দেবেন। তবে কি মমতার সঙ্গে গোপন কোনো যোগ রয়েছে জামাতের। আর সেই কারণেই সীমান্তে বেড়া দিতে দিচ্ছিল না মমতা সরকার? আসলে বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের ঢোকানোর ব্যবস্থা নিজেই করে আসছিলেন মমতা?

আরও পড়ুন: রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র, চিনে নিন প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথ রথকে

প্রসঙ্গত, শুরু থেকেই বাংলায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে বিজেপির তরফে একের পর এক অভিযোগ উঠে আসছিল। শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছে করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়ে তাদের ভোটে জয়ী হচ্ছিলেন। এমনকি ভোটের প্রচারের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও জানিয়েছিলেন যে “অনুপ্রবেশকারীরা যুবদের চাকরি খাচ্ছে, গরিবের ভাত খাচ্ছে। বিজেপির সরকার এলে সমস্ত কিছু বন্ধ হবে। নির্মূল করা হবে অনুপ্রবেশকারীদের। একজন অনুপ্রবেশকারীকেও রেয়াত করা হবে না।” স্বাভাবিকভাবেই তাই নির্বাচনে মমতার হারের পর বাংলাদেশের জামাত নেতাদের যে পা কাঁপছে, তা বেশ বোঝা যাচ্ছে।