অবশেষে হস্তক্ষেপ রাজ্যপালের, ইস্তফা না দিলেও আর মুখ্যমন্ত্রী রইলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদে রইলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শেষমেষ হস্তক্ষেপ করতেই হল রাজ্যপালকে। বৃহস্পতিবার বাধ্য হয়ে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। বলাই বাহুল্য, আজ অর্থাৎ 7 মে পর্যন্ত ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মেয়াদ। ফলে সংবিধান মেনে আসন ছাড়তে হতো মমতাকে। কিন্তু তাতে তিনি রাজি না হওয়ায় এবার বাইরে থেকে হস্তক্ষেপ করে বিধানসভা ভেঙে দিলেন খোদ রাজ্যপাল। ফলে, ইস্তফা দিতে না চাইলেও আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকলেন না মমতা।

রাষ্ট্রপতি শাসনের আওতায় চলে গেল বাংলা

গত 4 মে, প্রকাশিত হয়েছিল বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। তাতে জনতার রায়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি। ঠিক অন্যদিকে বিজেপির কাছে নিজের গড় অর্থাৎ ভবানীপুর কেন্দ্র সহ কার্যত গোটা বাংলায় হারতে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে। কাজেই হিসেব মতো আজ অর্থাৎ 7 মে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শেষ হওয়ার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়াদ। তবে গত মঙ্গলবার কালীঘাটে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যে ভোট গণনা নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, ক্ষমতার জোরে ভোট লুঠ করেছে বিজেপি। তাঁকেও মেরে ধরে গণনা কেন্দ্র থেকে এক প্রকার বের করে দেওয়া হয়েছে। এরপরই এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলেছিল নানান গুঞ্জন। এরই মাঝে গতকাল নিজের বক্তব্য ধরে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের জানান, তিনি কিছুতেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। প্রয়োজন হলে বিরোধীপক্ষ তাঁকে বরখাস্ত করুক।

অবশ্যই পড়ুন: মাসে কত কিমি করে বুলেট ট্রেনের ট্র্যাক তৈরি? জানালেন রেলমন্ত্রী

যদিও অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, মমতা মুখ্যমন্ত্রীর পদ না ছাড়লেও রাজ্যপাল হস্তক্ষেপ করে বিধানসভা ভাঙবেন। শেষ পর্যন্ত সেটাই হল। বৃহস্পতিবার, রাজ্যপাল নিজে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে এতদিন চলে আসা বিধানসভা ভেঙে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিলেন। শুধু তাই নয়, আগামী 9 মে ব্রিগেডে শপথ গ্রহণ করবে বিজেপি সরকার। তার আগের এই দুদিন যে বাংলা রাষ্ট্রপতি শাসনের আওতায় চলে গেল সেটাও মনে করিয়ে দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি।