সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বেড়ানোর আগে সাবধান। অনেকেই গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করলেও নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্সের (Driving License) মেয়াদের দিকে খেয়াল রাখেন না। কিন্তু মনে রাখবেন, এক্সপায়ার হওয়া লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানো মানে আইনি গ্যারাকল। সঠিক সময় লাইসেন্স রিনিউ না করলে আপনাকে পুনরায় আবারও ড্রাইভিং টেস্ট দিতে হতে পারে। এমনকি সেই লাইসেন্স বাতিলও পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।
কতদিন মেয়াদ থাকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের?
আসলে মোটর যান আইন অনুযায়ী বয়সভেদে লাইসেন্সের মেয়াদ ভিন্ন ভিন্ন থাকে। সাধারণভাবে ১৮ বছর বয়সে লাইসেন্স করলে তা ৪০ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে। ৪০ বছর বয়সের পর প্রতি ১০ বছর অন্তর আবার লাইসেন্স রিনিউ করতে হয়। কিন্তু ৫০ বছর বয়স পার হয়ে গেলেই লাইসেন্সের মেয়াদ কমে যায় মাত্র ৫ বছর। সেক্ষেত্রে প্রতি ৫ বছর অন্তর রিনিউ করা বাধ্যতামূলক।
তবে আপনার লাইসেন্সের মেয়াদ যদি শেষ হয়ে যায় অর্থাৎ এক্সপায়ার হয়ে যায়, তাহলে আপনি আর কোনও ভাবেই গাড়ি চালাতে পারবেন না বা গাড়ি চালানোর আইনি অনুমতি থাকবে না। সেক্ষেত্রে যদি ট্রাফিক পুলিশ আপনাকে ধরে, তাহলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যেতে পারে। এমনকি মোটা অংকের টাকা জরিমানা করা হতে পারে। আর নতুন করে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য ফের ড্রাইভিং টেস্টের মুখোমুখি হতে হবে।
হাতা থাকবে ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড
তবে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ঘাবড়ানোর কোনও কারণ নেই। কারণ, সরকার লাইসেন্স রিনিউ করার জন্য ৩০ দিনের অতিরিক্ত সময় দিয়ে থাকে। এই এক মাসের মধ্যে আবেদন করলে কোনও রকম অতিরিক্ত ফি বা জরিমানা ছাড়াই আপনি পুরনো লাইসেন্স রিনিউ করে নিতে পারবেন।
আরও পড়ুন: ৩৩৩ টাকার বিনিয়োগে মিলবে ১৭ লক্ষ টাকা! সুপারহিট সরকারি স্কিম
অনলাইনে কীভাবে রিনিউ করবেন লাইসেন্স?
এখন লাইসেন্স রিনিউ করার জন্য আর আরটিও অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কোনও দরকার নেই। বাড়িতে বসে অনলাইনের মাধ্যমেই তা সহজে করে নিতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে শুধুমাত্র নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে—
- সর্বপ্রথম সড়ক পরিবহন মন্ত্রকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে।
- এরপর ‘Driving License Related Services’ অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে।
- এরপর নিজের রাজ্য সিলেক্ট করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ হলে পশ্চিমবঙ্গ সিলেট করতে হবে।
- তারপর আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে লগইন করতে হবে।
- তারপর ‘Renewal of DL’ অপশনটি বেছে নিয়ে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে।
- তারপর অনলাইনে ফি জমা দিয়ে আবেদন সাবমিট করতে হবে। এবং পেমেন্ট স্লিপ এবং আবেদনের কপি ডাউনলোড করে নিজের কাছে রেখে দিতে হবে।
তবে হ্যাঁ, লাইসেন্স রিনিউ করার জন্য আপনার পুরনো অরিজিনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স দরকার পড়বে। আর পরিচয়পত্র বা ঠিকানার প্রমাণপত্র হিসেবে ভোটার কার্ড কিংবা পাসপোর্ট দিতে হবে। পাশাপাশি পাসপোর্ট সাইজের ফটো এবং ডিজিটাল সিগনেচার দরকার পড়বে। আর যদি বয়স ৪০ বছরের বেশি হয়, তাহলে ডাক্তারের মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।










