বিস্কুট থেকে শুরু করে চা-সাবান, ভারতে বাড়তে চলেছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম!

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তির কারণে জ্বালানি নিয়ে গোটা বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা (Daily Use Products Price)। ঠিক সেই পর্বে এবার ভারতে বাড়তে চলেছে নিত্য প্রয়োজনীয় একাধিক জিনিসের দাম! যেসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হতে চলেছে সেই তালিকায় থাকছে সাবান থেকে শুরু করে বিস্কুট, চা, কফি সহ একাধিক নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য। কয়েকটি রিপোর্ট বলছে, দেশের এফএমসিজি সংস্থা ডাবর 2027 আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির কথা চিন্তা করে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলির দাম বাড়াতে পারে। শুধু ডাবর নয়, আরও কিছু জনপ্রিয় সংস্থাও নতুন আর্থিক বছরে তাদের একাধিক পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। তাতে ছ্যাকা লাগবে মধ্যবিত্তের পকেটে।

কোন কোন জিনিসের দাম বাড়তে চলেছে?

বর্তমান সময়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বেশ চিন্তায় দেশের একাধিক সংস্থা। সেই তালিকা একেবারে প্রথমেই উঠে এসেছে ডাবরের নাম। সংস্থাটির গ্লোবাল চিফ এক্সিকিউটিভ মোহিত মালহোত্রা একেবারে খোলাখুলি জানিয়েছেন, ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিভিন্ন প্যাকেজিং উপকরণ অর্থাৎ যেসব উপকরণ প্যাকেজিং এর কাজে লাগে সেই সব দ্রব্যের দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই আসন্ন ত্রৈমাসিকে তাদের বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। বলাই বাহুল্য, চলতি ত্রৈমাসিকে ইতিমধ্যেই নিজেদের পণ্যের দাম 4 শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে ডাবর। নতুন করে দ্বিতীয়বারের মতো পণ্য দ্রব্যের দাম বাড়ানোর অপেক্ষায় সংস্থাটি।

ডাবরের পাশাপাশি ভারতের বৃহত্তম এফএমসিজি কোম্পানি এইচইউএল সহ আরও কিছু পরিচিত সংস্থা এই মুহূর্তে প্যাকেজিং পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে বেশ সমস্যার মধ্যে রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন ডাবর যদি তাদের পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেয় সে ক্ষেত্রে একই পথে হেঁটে আগামীতে ধীরে ধীরে এই সংস্থাগুলিও তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। শোনা যাচ্ছে, প্যাকেজিং দ্রব্যের খরচ বাড়ায় ডাবর এবং এইচইউএল এর মতো কোম্পানিগুলি তাদের সাবান, সার্ফ, চা, বিস্কুট, কফি, মসলা সহ বেশ কিছু প্যাকেটজাত দ্রব্যের দাম বাড়াতে পারে। একই সাথে নেসলে এবং ব্রিটানিয়ার মতো সংস্থাও তাদের প্যাকেটজাত পণ্যের দাম বাড়াবে বলেই খবর! দাম বাড়তে পারে প্যাকেটজাত দুগ্ধ পণ্যেরও।

অবশ্যই পড়ুন: কলকাতার অদূরেই রয়েছে মিনি তিব্বত, একবার গেলে মনে দাগ কেটে থাকবে আজীবন

সবকিছুর মূলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত

ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে নতুন করে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুই দেশই একে অপরের উপর ক্ষিপ্ত। শুধু তাই নয়, রাতবিরেতে হামলা পাল্টা হামলাও চালানো হচ্ছে ইরান এবং আমেরিকার তরফে। এদিকে সংঘাতের মাঝে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালী। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্য। বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এমতাবস্থায় বিভিন্ন প্যাকেজিং পণ্যের খরচ একপ্রকার দাবানলের গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সে কারণেই বাধ্য হয়ে বিভিন্ন প্যাকেজিং পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে একের পর এক সংস্থা।