সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে এবার যোগী মন্ডলে কাজ করা শুরু করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। হ্যাঁ, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই দিলেন বড়সড় হুঁশিয়ারি। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাজ্যে আইন সবার জন্যই সমানভাবে কার্যকর হবে। এমনকি বিশেষ করে তিনি ধর্মীয় স্থানে মাইকের আওয়াজ নিয়ন্ত্রণ আর রাস্তা আটকে প্রার্থনা বা সভা করার বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন।
শব্দ দূষণ এবং যানজট রুখতে বিরাট বার্তা
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ কর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোনও ধর্মীয় স্থানের মাইকের আওয়াজ যেন সেই চত্বরের বাইরে না ছড়িয়ে পড়ে। সে মসজিদ হোক, মন্দির হোক কিংবা গির্জা। এমনকি বিশেষ কোনও বড় উৎসব ছাড়া রাস্তা আটকে কোনও ধর্মীয় জমায়েত বা প্রার্থনা করা যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কোনও সমস্যা হবে না বলেই মত সকলের। যদিও জনস্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশকে আবার জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে নাখোদা মসজিদের ট্রাস্টি নাসির ইব্রাহিম জানিয়েছেন যে, আইন মেনে চলা নাগরিক হিসেবে তাঁরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন। রাস্তা আটকে কোনও কর্মসূচি না করার বিষয়ে তাঁরা সরকারকে সহযোগিতা করবেন। পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া ওরিয়েন্টাল একাডেমির অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুশারী বলেন যে, প্রার্থনা ব্যক্তিগত বিষয়। কোনও ধর্মগ্রন্থে মাইক বাজিয়ে ধর্ম পালনের কথা উল্লেখ করা নেই। সুস্থ সমাজ গঠনে এই পদক্ষেপ সত্যিই জরুরী।
আরও পড়ুন: জুন থেকে মাসে ৪৫০০! লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কি একসাথে মিলবে? জানুন
প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে উপকৃত হবেন বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষজন। প্রথমত, রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী আয়ুষ্মান ভারত যোজনা চালুর অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয়ত, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য বিএসএফ-কে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতার বেড়া দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তর করার নির্দেশ দিয়েছেন। তৃতীয়ত, সরকারি চাকরিতে প্রার্থীদের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া গণতন্ত্রের লড়াইয়ে যে ৩২১টি বিজেপি পরিবারের সদস্য প্রাণ হারিয়েছে, তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পিএম বিশ্বকর্মা থেকে শুরু করে পিএম উজ্জ্বলা বা ফসল বীমা যোজনার মতো প্রকল্পগুলি খুব দ্রুত কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।










