সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নতুন সরকার। অবৈধ টোলপ্লাজা বন্ধ থেকে শুরু করে সরকারি চাকরিতে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো বা জিরো টলারেন্স নীতি, সবকিছুতেই বড়সড় পদক্ষেপ শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। তবে এবার গোহত্যা বন্ধ (Cow Slaughter Ban) করতে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা নিয়ে গোটা রাজ্যে শুরু হয়েছে চর্চা।
শংসাপত্র ছাড়া গোহত্যা নিষিদ্ধ
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে নতুন নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে শংসাপত্র বা যথাযথ আইন অনুমতি ছাড়া কোনও ভাবেই গোহত্যা করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দিষ্ট শংসাপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। আর এই নিয়ম যদি লঙ্ঘন করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে জেল থেকে শুরু করে মোটা অংকের টাকা জরিমানা হবে বলে জানানো হয়েছে রাজ্যের তরফ থেকে।

প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সে ধর্মীয় উৎসব হোক কিংবা ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান, কোনও ক্ষেত্রেই এই নিয়ম অমান্য করা যাবে না। প্রকাশ্যে কোনও ভাবেই গোহত্যা করা যাবে না। জনগণের মধ্যে যাতে কোনও নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেই উদ্দেশ্য এই সিদ্ধান্ত। আর যদি কেউ নিয়ম ভঙ্গ করে, তাহলে তাঁকে কঠিন সাজা ভোগ করতে হবে।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীবারে ধন-সম্পত্তিতে ফুলে-ফেঁপে উঠবে ৪ রাশি! আজকের রাশিফল, ১৪ মে
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে গোটা রাজ্যে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। হিন্দু ধর্মালম্বী এবং পশুপ্রেমী সংগঠনের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, গবাদি পশুর সুরক্ষা ও ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপ জরুরী। কিন্তু অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ এবং ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষরা এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাঁদের মতে, ধর্মীয় রীতিতে সরকারের এই হস্তক্ষেপ ব্যক্তি স্বাধীনতায় আঘাত হানা।










