ফাংশনের নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ, সুরেন্দ্রনাথ কলেজের তোলাবাজি দেখালেন সজল ঘোষ

Published:

Sajal Ghosh

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দুর্নীতি, তোলাবাজ, সিন্ডিকেট, মাফিয়া! যতই বলা হোক না কেন কম হবে। এবারের নির্বাচনে সেই সব কিছুর পতন হয়েছে। ক্ষমতায় ফিরেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)। আর তাতেই কাল হল তাদের। তৃণমূলের একের পর এক দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করছে নতুন সরকার। কোথাও কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি, কোথাও টাকা দিয়ে চাকরি, কোথাও বা অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া, সবকিছুই সামনে আসছে এবার। আর সেই আবহে বরানগরের সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) সুরেন্দ্রনাথ কলেজের বিরাট দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করলেন।

দুর্নীতির পর্দা ফাঁস সুরেন্দ্রনাথ কলেজের

উল্লেখ্য, এবার বরানগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ছিলেন সজল ঘোষ। আর তাঁর বিপরীতে ছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে নবনির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে গত পরশুদিন শপথগ্রহণ করেছেন সজল ঘোষ। আর তারপরেই সুরেন্দ্রনাথ কলেজের কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির কীর্তি ফাঁস করলেন তিনি।

আজ ফেসবুক পোস্টে বিধায়ক সজল ঘোষ একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের স্ক্রিনশট দিয়ে লিখেছেন যে, সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের শুধুমাত্র একটা ফাংশানের নামেই কোটি কোটি টাকা জমা হয়েছে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের কাছে আমার একটাই আবেদন, অবিলম্বে এই দুর্নীতির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হোক। আর আমরা সবাই জানি যে এই দুর্নীতির মাথা কারা। প্রমাণ সহ অবিলম্বে সবাইকে গ্রেফতার করা হোক। তবে তিনি নাম না করে যে তৃণমূল কংগ্রেসকেই নিশানা করলেন তা বলার অপেক্ষায় রাখে না।

আরও পড়ুন: রফতানিতে নয়া রেকর্ড ভারতের, এপ্রিলে ছুঁল ৮০.৮ বিলিয়ন ডলার

উল্লেখ্য, তিনি ফেসবুকে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ছবি পোস্ট করেছেন, সেখানে দেখা যাচ্ছে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের নামেই ওই অ্যাকাউন্টটি খোলা, এবং যেটি ২০১২ সালের ২ নভেম্বর ওপেন করা হয়েছিল। ট্রানজেকশন হিস্টোরিতে দেখা যাচ্ছে, ১১ মে ২০২৬ এর রিপোর্ট অনুযায়ী ওই অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ১২ হাজার ৯০৯ টাকা ব্যালেন্স রয়েছে। এমনকি ২০২৬-এর ৩১ মার্চ অ্যাকাউন্টটিতে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ক্রেডিট হয়েছিল। বিধায়কের দাবি অনুযায়ী, এটি কলেজ ফাংশনের নামই আদায় করা হয়েছিল। কিন্তু কোথা থেকে সেই টাকা এল, সেই টাকার উৎস কী, সেই সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই। যা নিয়েই এবার সরব হয়েছেন সজল ঘোষ।