সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে সরকার বদলাতেই শিল্প (Industry) উন্নয়নের চাকা রকেটের গতিতে ছুটছে। এবার শিল্প খাতে বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা করে ফেলল দেশের অন্যতম শীর্ষ ধাতু প্রস্তুতকারক সংস্থা শ্যাম মেটালিক্স (Shyam Metalics Invest in Bengal)। সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক বছরে তারা নাকি পশ্চিমবঙ্গে মোট ২০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে। আর রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনও বড় কর্পোরেট সংস্থা এত বিরাট অংকের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে রাজ্যের শিল্প মহলে যে নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
খড়গপুরে বসছে বিশাল রেল কারখানা
শ্যাম মেটালিক্সের এই মেগা প্রকল্পের সবথেকে বড় আকর্ষণ হবে মেদিনীপুরের খড়গপুরের একটি নতুন রেল ম্যানুফেকচারিং বা রেল সরঞ্জাম উৎপাদনকারী ইউনিট স্থাপন। জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র এই রেল কারখানার জন্যই সংস্থাটি আগামী বছরগুলিতে ৪০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এমনকি খড়গপুরের দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বন্ধ থাকা একটি কারখানা ইতিমধ্যেই অধিগ্রহণ করে ফেলেছে এই কোম্পানি। আর চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই কারখানায় উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সবথেকে বড় ব্যাপার, বর্তমানে এই সংস্থায় বাংলার প্রায় ২৫ হাজার মানুষ কাজ করে। তবে নতুন বিনিয়োগের ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই কর্মচারীর সংখ্যা বাড়িয়ে একেবারে ৪৫ হাজার করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ সরাসরি আরও ২০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান হবে। সংস্থার চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর ব্রিজ ভূষণ আগারওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হওয়ায় হওয়ার কারণে তারা অত্যন্ত আশাবাদী। এর ফলে রাজ্যের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় ফান্ড আসবে। আর শিল্প উন্নয়নের পথ আরও প্রশস্ত হবে।
আরও পড়ুন: খোলা হবে জিটিএ ফাইলস! উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে ‘রণং দেহি’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
পাশাপাশি সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের প্রায় ৯০% বাংলার ভূমিপুত্র। আর বাংলার যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আগামী দিনে এই রাজ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া জারি রাখা হবে। পাশাপাশি সংস্থার জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্জয় কুমার আগারওয়াল একে বাংলার জন্য ‘গর্বের মুহূর্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা চাই এই রাজ্যের মানুষ যেন এখানেই কাজ পায়। বিভিন্ন রাজ্যে কাজের সন্ধানে যাওয়ার প্রবণতা যেন বন্ধ হয়। আর বাংলার মানুষের কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও শ্রমকে আমরা অত্যন্ত সম্মানও করি।”










