বিদ্যুতের খুঁটি, তার মুক্ত প্রথম ভারতের রাজ্য হতে চলেছে পাঞ্জাব

Published:

Government of Punjab

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নে বিরাট পদক্ষেপ নিল পাঞ্জাব সরকার (Government of Punjab)। গ্রামে আর ঝুলন্ত বিদ্যুতের তারের বিপজ্জনক জাল বা যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি দেখা যাবে না বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান (Bhagwant Mann)। তিনি খুঁটিমুক্ত রাজ্য হিসেবে পাঞ্জাবকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাঁর নিজের পৈত্রিক গ্রাম সতৌজ থেকেই বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচে নিয়ে যাওয়ার ঐতিহাসিক প্রকল্পের শিলান্যাস করেছেন।

আসলে পাঞ্জাব সরকারের এই সতৌজ মডেল আগামী দিন গোটা দেশের জন্য পথপ্রদর্শক হতে চলেছে বলেই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। কারণ, চাষের জমিতে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাধারণ মানুষ বা গবাদি পশুর মর্মান্তিক মৃত্যু রক্ষার জন্যই এই কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে এবার হাত দেওয়া হচ্ছে।

কী এই সতৌজ পাইলট প্রজেক্ট?

মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হল—মাটির তলা দিয়ে তার নিয়ে যাওয়ার জন্য গ্রামের কোনও রাস্তা আর খোঁড়াখুঁড়ি করা হবে না। অত্যাধুনিক ড্রিলিং মেশিনের সাহায্যেই মাটি থেকে ৩ ফুট নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে কেবল তার নিয়ে যাওয়া হবে। আর প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রজেক্টের জন্য আনুমানিক ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাম থেকে একধাক্কায় ৩৮৪টি অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুতের খুঁটি সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলা হবে। আর মাটির তলা দিয়ে ৭ কিলোমিটার হাই-টেনশন লাইন, ৯.৫ কিলোমিটার লো-টেনশন লাইন এবং গ্রামের ৮০০টি গ্রাহক বাড়িকে যুক্ত করতে আনুমানিক ৪১ কিলোমিটার সার্ভিস কেবল বসানো হবে।

আরও পড়ুন: সবাই পাবেনা কন্যাশ্রীর টাকা? প্রকল্পে রাশ টানার দাবি সরকারের কাছে

এদিকে ঝুলন্ত তার মাটির নিচে চলে যাওয়ার ফলে গ্রামীণ জীবনে বেশ কিছু পরিবর্তন আসবে বলেই মত মুখ্যমন্ত্রীর। প্রথমত, অতীতে এই সতৌজ গ্রামেই হারভেস্টার মেশিনের সঙ্গে বিদ্যুৎ তারের সংস্পর্শে তিনজন যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নতুন প্রকল্প সেই সমস্ত দুর্ঘটনা সম্পূর্ণ নির্মূল করবে। দ্বিতীয়ত, প্রতি বছর ধান-গম কাটার মরসুমে তারের স্পার্কিং থেকে ফসলে আগুন লেগে কৃষকদের অনেকটাই ক্ষতি হত, যা এখন পুরোপুরি বন্ধ হবে। এমনকি ঝড়-বৃষ্টি বা ঝড়ো হাওয়া দিলেই বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে বা তার ছিঁড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকত। তবে সেই সমস্যা আর থাকবে না।