ভারত এই জিনিস না দিলে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়বে নেপাল! বাঁচাবে দিল্লি?

Published:

Indian-Nepal Relation

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বলেন শাহের নেতৃত্বে নেপালে (Nepal) নতুন সরকার গঠন হতেই একাধিক বদল এসেছে প্রতিবেশী দেশটিতে। নানান ক্ষেত্রে একের পর এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নেপালের বর্তমান সরকার। এদিকে ইরান সংঘাতের কারণে পশ্চিম এশিয়া থেকে নেপালে সার সরবরাহ ধাক্কা খেয়েছে। আর সে কারণেই এবার দেশটি ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ সার কেনার পরিকল্পনা করছে (India-Nepal Relations)। বালেন শাহের মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই নাকি এই পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে। আর তারপরই নয়া দিল্লির কাছে সারের দাম জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন নেপাল।

ভারত থেকে প্রচুর সার কেনার পরিকল্পনা নেপালের

নেপালের কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সম্পাদক রামকৃষ্ণ শ্রেষ্ঠ গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, “আমরা এই সপ্তাহে ভারত থেকে দ্রব্যমূল্যের একটি তালিকা পাব বলে আশা করছি। সেই তালিকা পাওয়ার পরই দাম দেখে তবেই সারের অর্ডার করা হবে।” এদিন তিনি এও জানালেন, “ভারতীয় কোম্পানি পেমেন্ট দেওয়ার 120 দিনের মধ্যেই সমস্ত সার ডেলিভারি করার আশ্বাস দিয়েছে। জরুরি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ডেলিভারির মেয়াদ কমানোর অনুরোধ করেছি।”

জানা যাচ্ছে, জি2জ ব্যবস্থার অধীনে ভারত থেকে 80,000 টন রাসায়নিক সার নেবে নেপাল সরকার। সেই মর্মেই চলতি মাসের শুরুর দিকেই কৃষি ইনপুট সংস্থাকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে নেপাল সরকারের তরফে। আসলে ইরান যুদ্ধের কারণে রাসায়নিক সারের বিশ্বব্যাপী মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিবেশী দেশটি।

বলাই বাহুল্য, 2022 সালের দ্বীপাক্ষিক চুক্তির অধীনে এককালীন 60,000 টন ইউরিয়া এবং 20,000 টন ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট পাঠানো হবে নেপালে। যদিও প্রাথমিকভাবে নেপালের তরফে একসাথে দেড় লাখ টন সার চাওয়া হয়েছিল। তবে বাজেটের দিক মাথায় রেখে পরে পরিমাণটা কমিয়ে দেয় নেপাল সরকার।

অবশ্যই পড়ুন: কেন টিম ইন্ডিয়ায় জায়গা হচ্ছে না শামির? সমস্যা নিয়ে মুখ খুললেন আগরকর

ভারত সার না দিলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে নেপাল

কমবেশি সকলেই জানেন, চাল নেপালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। ভারতের এই প্রতিবেশী দেশটিতে মাথাপিছু চালের গড় বার্ষিক খরচ 137.5 কেজি। এদিকে কৃষি ইনপুট কোম্পানির বর্তমানে 1,71,000 টন সার স্টকে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র ধানের প্রতিস্থাপনের মরসুমে নেপালে আড়াই লাখ টন সার প্রয়োজন হয়। এদিকে সরবরাহের ঘাটতি থাকার কারণে সার নিয়ে ব্যাপক চিন্তায় প্রতিবেশী দেশের সরকার। আর সে কারণেই ভারতের কাছ থেকে সার কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। তবে শেষ পর্যন্ত যদি ভারত থেকে সার না যায় তবে ধান উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়বে নেপালে। যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ধাক্কা খাবে। এক কথায়, বড় ক্ষতি হবে নেপালের।