প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতার পালাবদল হতেই এবার বড় কোপ পড়ল তৃণমূল নেতাদের (TMC Leaders) নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। রাতারাতি নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলিয়ে প্রায় ১১০০ জনের নিরাপত্তা ছাঁটাই (Removed Security Of 1100 Leaders) করল প্রশাসন। আর সেই ছাঁটাই এর তালিকায় এবার নাম উঠে এল শওকত মোল্লা ও জাহাঙ্গির খানের। তুমুল শোরগোল রাজনৈতিক মহলে।
১১০০ জনের নিরাপত্তায় কাটছাঁট
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে হেভিওয়েট নেতা মন্ত্রী ছাড়াও ব্লক স্তরের বহু নেতারা অতিরিক্ত নিরাপত্তা পেতেন বলে অভিযোগ। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং নন-ক্যাটাগরাইজ নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এঁদের মধ্যে শওকত মোল্লা, জাহাঙ্গির খান-সহ আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন। কেউ পেতেন ‘এক্স’, কেউ ‘ওয়াই’, কেউ বা আবার ‘জেড’ ক্যাটিগরির নিরাপত্তা। কিন্তু এবার প্রশাসনিক রদবদল হতেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের উপর শুভেন্দু সরকারের নির্দেশে কড়া হস্তক্ষেপ করেছে লালবাজার ও নবান্ন। তুলে নেওয়া হল ১১০০ জনের নিরাপত্তা।
বাতিল হল জাহাঙ্গির খানের জেড নিরাপত্তা
সম্প্রতি নবান্নের দেওয়া একটি রিপোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে রাজ্যে ১৭৫ জন নেতা-নেত্রী এক্স, ওয়াই এবং জেড ক্যাটিগরির নিরাপত্তা পেতেন। আরও ৯০০ জন নন-ক্যাটিগরাইজড তালিকাভুক্ত নিরাপত্তা পাচ্ছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা পেতেন জেড ক্যাটিগরির নিরাপত্তা। ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ছিল ওয়াই প্লাস ক্যাটিগরির নিরাপত্তা। অন্যদিকে ডায়মন্ড হারবার ব্লক যুব তৃণমূলের সভাপতি গৌতম অধিকারী ওয়াই প্লাস ক্যাটিগরির নিরাপত্তা পেতেন। তবে এবার সেই সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাতিল করা হল। কোপ পড়ল প্রাক্তন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, মলয় ঘটক ও উদয়ন গুহর মতো নেতার নিরাপত্তায়।
আরও পড়ুন: “উত্তরবঙ্গের ঋণ চোকাবে নতুন সরকার” AIIMS ও IIT গড়ার প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর
দীর্ঘ আলোচনার পর প্রশাসনিক তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশের কমিশনার, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরাই নির্দিষ্ট নিরাপত্তা পাবেন। আর তাতেই খানিক আশার আলো দেখছেন পুলিশ কর্মীরা। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক নেতা-মন্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছিল। এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গে মাথাপিছু পুলিশের সংখ্যা কম। তার উপর এত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তাতেই কাজের বিঘ্ন ঘটছিল।










