অফসাইড দেওয়ায় রেফারিকে তাড়া করে মারধর ফুটবলারদের, ভয়ঙ্কর কান্ডের ভিডিও ভাইরাল

Published:

Attack On Referee

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ফুটবল মাঠে রেফারিকে (Attack On Referee) মারধর, কোনও নতুন ঘটনা নয়। বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফুটবলার থেকে শুরু করে সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত হতে হয় রেফারিদের। তেমনই এক নক্কারজনক ঘটনার সাক্ষী থাকলো বঙ্গ ফুটবল। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ম্যাচের দায়িত্বে থাকা এক রেফারিকে তাড়া করলেন ফুটবলারেরা। শুধু তাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে ওই রেফারিকে বেধড়ক মারধরেরও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, হুগলির মগড়ায় আইএফএ স্টেট ইউথ লিগ অনূর্ধ্ব 17 ফুটবল টুর্নামেন্ট ম্যাচ চলাকালীন।

কোনও মতে প্রাণে বাঁচলেন রেফারি

গত শনিবার, হুগলির আইএফএ স্টেট ইউথ লিগের ম্যাচ গড়িয়েছিল সুষ্ঠুভাবেই। তবে খেলা শুরু হতেই ধরা পড়ে অশান্তির ছবি। অভিযোগ, এদিন অফসাইডে করা গোল বাতিল হয়ে যেতেই একেবারে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ফুটবলারেরা। আর তারপরেই রেফারিকে তাড়া করে মারধর করেন তাঁরা। সূত্রের খবর, মগরার নতুন গ্রাম সন্তান সংঘের মাঠে এই ঘটনাটি ঘটেছিল।

ম্যাচ তখন প্রায় শেষের পথে। সেই সময় 2-0 গোলে এগিয়েছিল ভবানীপুর ক্লাব। অন্যদিকে হুগলি সিটি শেষ মুহূর্তে হন্যে হয়ে গোলের খোঁজ করছিল। সেই মতোই কোনও মতে একটি গোল করতেই সহকারি রেফারি অফসাইডের ইশারা করেন। ফ্ল্যাগ তুলে অফসাইড দেখিয়ে বাঁশি বাজান তিনি। আর সেটাই যেন কাল হয়ে যায় তাঁর জন্য। প্রচন্ড পরিশ্রম করে একটি গোল করার পর তা অফসাইড ঘোষণা করায় রেফারির উপর চড়াও হন হুগলি সিটির ফুটবলারেরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়ে, একসাথে বেশ কয়েকজন ফুটবলার দলীয় জার্সি পড়ে রেফারিকে তাড়া করেছেন।। অভিযোগ, হুগলি সিটির ফুটবলাররা ওই রেফারিকে বাগে পেয়ে মারধরও করেন। তাতে মাঠেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই সহকারী রেফারি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি মাঠে ছুটে আসেন ফিজিও। আক্রান্ত রেফারির বুকে পাম্প করে তাঁকে সুস্থ করে তোলেন তিনি।

অবশ্যই পড়ুন: অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর চোট, শেষ মুহুর্তে নতুন প্লেয়ার কেনার পথে KKR!

এদিন, ওই সহকারি রেফারির পাশাপাশি আরেকজন মহিলা সহকারি রেফারিও মাঠে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকেও হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে ফুটবলারদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, আইএফএর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ উঠে। এছাড়াও দাবি করা হয়, প্লেয়ারদের বিশ্রামের জন্য একটা ড্রেসিংরুম পর্যন্ত নেই। ফুটবলার থেকে শুরু করে কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের গাছের তলায় বসতে হয়েছে। এই ঘটনায় আইএফএ কর্মকর্তা অনির্বাণ দত্ত জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি তাঁর কানে যেতেই তিনি মগরা থানায় খবর দেন। তারপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।