সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের কর্মরত শিক্ষকদের বাধ্যামূলকভাবে টেট (Teacher Eligibility Test) পাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। তবে সেই রায় বহাল রাখার নির্দেশকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও শুক্রবার এক নির্দেশিকা জারি করে দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, টেট পাশের সময়সীমা আরও এক বছর বাড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ দুই বছর থেকে বাড়িতে তিন বছর করা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও চাকরি হারানোর ভয়ে আতঙ্কে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে লক্ষ লক্ষ শিক্ষক।
এদিকে এই সংকট থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখতে এবার সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) দারস্থ হয়েছেন শিক্ষকদের একটি বৃহৎ অংশ। এই রায় প্রদান করার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ অর্ডিন্যান্স জারি করা ছাড়া আর কোনও আইনি পথ খোলা নেই বলেই মনে করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ।
কী ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ?
আসলে এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কর্মরত সমস্ত প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে টেট পাশ করতে হবে। আর যারা সেই যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, তাদের ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ডেডলাইন দেওয়া হয়। অর্থাৎ দু’বছর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। নাহলে তাদেরকে স্বেচ্ছায় অবসর নিতে বাধ্য করা হবে বলে জানানো হয়েছিল।
কিন্তু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আদালত জানিয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে যাদের চাকরির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হচ্ছে অর্থাৎ ২০২৫ সালের নির্দেশিকা প্রকাশের সময় থেকে যাদের চাকরির মেয়াদ আর পাঁচ বছর, সেই সমস্ত প্রবীণ শিক্ষকদের এই পরীক্ষার আওতায় বাইরে রাখা হবে। তবে এই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতিসহ দেশের বেশ কিছু রাজ্যের শিক্ষক সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিল। শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট আগের রায় বহাল রাখলেও টেট পাশের সময় এক বছর বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো আবেদনে শিক্ষকরা মূলত আইনের সময়কাল আর শিক্ষকতায় যোগদানের বাস্তব অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন। তাঁরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন দেশজুড়ে বলবৎ হয়েছিল ১ এপ্রিল ২০১০ এ। আবার অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষকদের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে টেট বাধ্যতামূলক করার আইন কার্যকর হয় ২০১১ সালে জুলাই মাসে। শিক্ষকদের যুক্তি, ২০১১ সালের আগে এই রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার জন্য টেট পরীক্ষায় কোনও রকম পরিকাঠামো ছিল না। যার ফলে যোগ্যতা ছাড়া অপ্রশিক্ষিত হিসেবে তাদের দাগিয়ে দেওয়াটা অনুচিত। আইন তাদের যোগদানের পর তৈরি হয়েছে। তাই এই আইন জোরপূর্বক প্রয়োগ করা আইনসম্মত নয়।
আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার জমিতে বাড়ি, মদন মিত্রর বাসভবনের তালা ভেঙে ঢুকল পুলিশ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ইমেইল পাঠিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মন্ডল বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, যে সময় চাকরি জীবনে টেট বলে কোনও পরীক্ষার ধারণা ছিল না, সেই সময়ের শিক্ষকদের আজ এত বছর চাকরি করার পর নতুন করে আবারও পরীক্ষা দিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে বলা হচ্ছে! এটি চরম অবমাননা আর অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ শিক্ষক এবং তাঁদের পরিবারের রুটিরুজি বিপন্নের মাঝে। একমাত্র দেশের সরকারই আমাদের এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে অর্ডিন্যান্স জারির আবেদন জানাচ্ছি।










