প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতাচ্যুত হতেই তৃণমূলের কংগ্রেসের (All India Trinamool Congress) থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন একের পর এক বিধায়ক, নেতা, মন্ত্রী। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা বিতর্ক শোরগোল শুরু হয়েছে। নিজের দলের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের পদাধিকারীরা। এমতাবস্থায় সমাজমাধ্যমে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন এই বিপদের সময়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকবেন তিনি।
ক্ষোভ উগরে দিলেন কুণাল
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্টের মাধ্যমে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ লেখেন, “আমার অবস্থান স্পষ্ট করে আবার বলি। তৃণমূল কংগ্রেস করি। নেতৃত্বের প্রতি আমার বহু অভিযোগ, রাগ, যন্ত্রণা ছিল এবং আছে। দলের কিছু কাজ, কিছু নেতার ঔদ্ধত্যপূর্ণ অপরিণত আচরণ, লোক চেনার ভুল, অভিজ্ঞ যোগ্য কর্মীদের গুরুত্বহীন করার আমি বিরোধী। আমি স্তাবক, সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে। ব্যক্তি স্বার্থান্বেষীদের পছন্দ করি না। আমার জীবন অপবাদে ধ্বংস করতে গেছিল এদের কেউ কেউ। জ্ঞানত কোনো অপরাধ করিনি। তখন তো আজকের বিপ্লবীরা কেউ মুখ খোলেনি। তবু, আমি দলের সৈনিক থেকে গেছি।”
কী জানালেন তিনি?
প্রতিবাদের ভঙ্গিতে কুণাল ঘোষ বলেন, “ফল প্রকাশের এক মাসও হয়নি। তার আগেই দলে বিদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা?? দলের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ?? তাহলে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম কেন?? আজ দিদি মুখ্যমন্ত্রী হলে তো অনেকে মন্ত্রী হওয়ার লবি করত। এখন হঠাৎ নানা কারণ দেখিয়ে দূরত্ব?? এটা কাপুরুষতা। দলের কর্মপদ্ধতি নিয়ে দলের বৈঠকে প্রয়োজনে প্রকাশ্যে বলব। কিন্তু দলের পাশে থেকে। তাতে কাজ না হলে তারপর দেখা যাবে। তার আগেই ‘ভালো’ সাজার এত চেষ্টা? অনেকের এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই তো? যাঁরা দলের কাছ থেকে বহু দায়িত্ব, পদ, ক্ষমতা এতদিন পেয়ে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে ক’জন আজ সামনে আছেন? বাকিরা কোথায়? দলের ভালোর সময়ে ক্ষমতা, ছবি, সেলফি; আর খারাপ সময়ে হাঁটু কাঁপছে? দলের তরফে বিধায়ক হওয়ার পর দলের বৈঠক নিয়ে কোনো বক্তব্য থাকলে দলকে না জানিয়ে গোপনে প্রতিপক্ষের কাছে অভিযোগ? এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা!!! কর্মীরা বিচার করবেন।”
আরও পড়ুন: বিকেলই বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের ৯ জেলায়, কেমন থাকবে আগামীকালের আবহাওয়া?
পাশে থাকার বার্তা কুণালের
তৃণমূলের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে কুণাল জানান, “ সদ্য বিধায়ক হওয়ার পরেই দলবিরোধী বা দিদির বাইরে কিছু করলে আমার বেলেঘাটার মানুষও আমাকে গদ্দার, বেইমান ভাববেন। নিজের কাছেও ছোট হয়ে যাব। তাই, হতে পারে বিরোধী দল, হতে পারে এখন চাপের মুখে, হতে পারে দল সমালোচিত; তবু মমতা ব্যানার্জির পাশেই থাকব। হতে পারে এর জন্য অনেক ঝড়, হয়রানি, নিগ্রহ আসবে আমার উপর, কিন্তু আমি এখন এই অবস্থানেই থাকব। যিনি আমাকে দলের প্রতীক দিয়ে বিধায়ক হওয়ার দরজা খুলে দিয়েছেন, এখন দলের খারাপ সময়ে তাঁর পাশ থেকে সরে যাব না। জয় বাংলা।”










