আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: হাওড়া স্টেশনে (Howrah Station) দাঁড়িয়ে থাকা বন্দে ভারতকে (Vande Bharat) ঘিরে জঙ্গি হামলা! গভীর রাতে শুরু গুলির লড়াই। ট্রেনের ভিতরে থাকা সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ লড়াই চালাল ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড বা NSG। পাশে RPF, রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স, পুলিশ এবং দমকল। শেষ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের নিকেশ করে বন্দে ভারতকে মুক্ত করল NSG।
সত্যিই কি জঙ্গি হামলা? কী ঘটল বন্দে ভারতে?
না, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। এটি আসলে বাস্তব হামলা নয়, বরং সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আগাম প্রস্তুতি। ভবিষ্যতে সত্যিই যদি কোনদিনও এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়? সামাল দিতে পারবে তো এনএসজি? তারই যাচাই করতে এই সন্ত্রাসবিরোধী মহড়ার আয়োজন করা হয়েছিল। ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যরাতে হাওড়া স্টেশনে এই মহড়া চালানো হয়। সেখানে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে জঙ্গি হামলার একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি করে তার মোকাবিলা করে নিরাপত্তাবাহিনী।
পুরো অভিযানের দায়িত্বে ছিল কলকাতায় থাকা NSG-এর ২৯ স্পেশাল কম্পোজিট গ্রুপ। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে মহড়ায় অংশ নেয় রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স বা RPF, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স, রাজ্য পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস। NSG কমান্ডোরা স্টেশন সুরক্ষিত করার পাশাপাশি বন্দে ভারতে উঠে কাল্পনিক হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।
এই মহড়ায় শুধু ‘জঙ্গি নিকেশ’ করাই লক্ষ্য ছিল না। কোনও বড়সড় সঙ্কটের সময় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান এবং একসঙ্গে কাজ করার পদ্ধতি কতটা কার্যকর, সেটিও যাচাই করা হয়। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে প্রত্যেক সংস্থার নির্ধারিত দায়িত্ব কতটা পালন করা হবে এবং কতটা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে সেই সমস্ত কিছুর পরীক্ষা করা হয়েছে।
মহড়ার সময় NSG-এর ডগ স্কোয়াডের পাশাপাশি বোমা শনাক্তকারী রোবট ও অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জামও ব্যবহার করা হয়। এমন মহড়ার মাধ্যমে নিরাপত্তাবাহিনী হাওড়া স্টেশন এবং বন্দে ভারত ট্রেন সম্পর্কে অনেক ধারণা পায়, যা ভবিষ্যতে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।
আরও পড়ুন: ৩৩৭ কোটি খরচ, কলকাতা এয়ারপোর্টে নিয়ে বিরাট উদ্যোগ সরকারের
দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেল টার্মিনালগুলির অন্যতম হাওড়া স্টেশন। তাই এখানেই এই মহড়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং এমন জরুরি অবস্থার জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তা ও জরুরি পরিষেবা সংস্থা কতটা প্রস্তুত, সেটাই আরও ভালোভাবে যাচাই করা হল।










