সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আন্তর্জাতিক বাজারে তেল এবং গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে এমনিতেই উত্তেজনা লেগে রয়েছে। তবে তারই মাঝে রাশিয়ার উপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়িয়ে ফেলল ভারত (India Buy Fuel From Russia)। রুশ তেল বহনকারী জাহাজগুলির বিমা বা ইন্স্যুরেন্স (Insurance) কভারের জন্য অনুমোদিত রুশ কোম্পানির সংখ্যা এবার ৮ থেকে বাড়িয়ে ১১ করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং এর এই সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
কেন নেওয়া হল এই বড়সড় সিদ্ধান্ত?
আসলে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধ আর হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকার কারণে ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশগুলি গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। আর এই অবস্থায় রাশিয়ার কাছ থেকে নির্বিঘ্নে তেল আমদানি বজায় রাখার জন্যই বিমা ব্যবস্থার রদবদল করেছে মোদী সরকার। সাধারণত পশ্চিমা বিমা সংস্থাগুলি নিষেধাজ্ঞার ভয়ে রুশ তেলের জাহাজে বিমা দিতে চায় না। তবে সেই সমস্যা এড়াতেই দেশীয় রুশ সংস্থাগুলোকে অনুমতি দিচ্ছে ভারত।
সূত্রের খবর, ভারতের ডিরেক্টরের জেনারেল অফ শিপিং এবার বেশ কিছু নামিদামি রুশ বীমা সংস্থাকে দীর্ঘমেয়াদি অনুমতি দিয়েছে। যার মধ্যে ভিএসকে, সোগাজ এবং আলফাস্ট্রাখোভানি এই তিনটি সংস্থা ২০৩০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ভারতে পরিষেবা দিতে পারবে। পাশাপাশি ইনগোস্ট্রাখ নামক ইন্স্যুরেন্স সংস্থাকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত বরাত দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গ্যাজপ্রম এবং রসগোস্ট্রাখ সংস্থাগুলিকে ২০২৭ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দুবাই ভিত্তিক ইসলামিক প্রটেকশন অ্যান্ড ইনডেমনিটি ক্লাবকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভারতে পরিষেবা দেওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
আরও পড়ুন: ৯০৮ ট্রেন, ১৮ হাজারের বেশি ট্রিপ! গরমের ছুটিতে ভ্রমণ আরও সহজ করল রেল
বলে রাখি, সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে বিমা কিংবা প্রটেকশন অ্যান্ড কভার অপরিহার্য। তেলের ট্যাঙ্কারে কোনও রকম দুর্ঘটনা ঘটলে বা পরিবেশের ক্ষতি হলে তার বিশাল অংকের দায়ভার এই বিমা সংস্থাগুলি বহন করে থাকে। আর আন্তর্জাতিক স্তরে পশ্চিমা দেশগুলির দাপট থাকলেও রাশিয়া এই ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ অফ পিঅ্যান্ডআই ক্লাবের অংশ নয়। সেই কারণে সরাসরি রুশ সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া ভারতের জন্য যে কৌশলগত লাভজনক সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।










