বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হচ্ছে, তাই এ দেশেই আইফোন উৎপাদনে জোর দিয়েছে অ্যাপেল (Made In India iPhone)। এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে মনোমালিন্য হলেও অ্যাপেল CEO টিম কুক জানিয়েছিলেন, ভারতেই নিজেদের ব্যবসা বাড়াতে চান তিনি। মূলত সেই সূত্র ধরেই আগেই আমেরিকার বাজারে আইফোন বিক্রির নিরিখে চিনকে ছাপিয়ে গিয়েছিল ভারত। আন্তর্জাতিক বাজারে আইফোন বিক্রিতে এবার তৈরি হল আরও এক নতুন রেকর্ড। সরকারের কাছে জমা দেওয়া বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, 2026 আর্থিক বছরে বিদেশে রপ্তানি হওয়া ভারতে তৈরি আইফোন বিক্রি 2 ট্রিলিয়ন রুপির রেকর্ড মূল্য স্পর্শ করেছে।
ভারতে তৈরি আইফোনে ছেয়ে গিয়েছে বিশ্ববাজার!
গত বছর অর্থাৎ আগস্টের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনে ভারতের থেকে অনেক বেশি আইফোন তৈরি হয়। কিন্তু তা সত্বেও ভারতে তৈরি আইফোন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আমেরিকার বাজারে। এক কথায়, এই মূল্যবান স্মার্টফোন মার্কিন বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রে চিনকে পেছনে ফেলে দিয়েছে ভারত। বর্তমান সময় দাঁড়িয়ে সেই ব্যবধানটা বেড়েছে বই কমেনি। যার উজ্জ্বল উদাহরণ প্রকাশ্যে আসা সাম্প্রতিক রিপোর্ট।
বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, 2026 আর্থিক বছরে আপেলের ফ্ল্যাগশিপ পণ্য আইফোন হারমোনাইজড সিস্টেম শ্রেণিবিন্যাসের আওতাভুক্ত বিভিন্ন বিভাগ মিলিয়ে দেশের বৃহত্তম ব্র্যান্ডেড রপ্তানি পণ্যে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, 2026 আর্থিক বছরের এপ্রিল থেকে ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া স্মার্টফোনের মূল্য ছিল 2.6 ট্রিলিয়ন রুপি। যার মধ্যে তিন চতুর্থাংশের বেশি জায়গা দখল করে রেখেছে আইফোন। অর্থাৎ প্রায় 2 ট্রিলিয়ন রুপির আইফোন রপ্তানি হয়েছে ভারত থেকে।
অবশ্যই পড়ুন: ৭৭ টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি! EVM বিতর্কে আজই হবে কমিশনের জরুরি বৈঠক
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে তৈরি আইফোনের এই বিপুল পরিমাণ রপ্তানির নেপথ্যে কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে পিএলআই কর্মসূচিকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত এই কারণেই আইফোনের রপ্তানি বাণিজ্য একেবারে নগণ্য স্তর থেকে 2 ট্রিলিয়ন রুপিতে পৌঁছেছে। ওই রিপোর্ট বলছে, গোটা বিশ্বে সংঘাতমুখর পরিস্থিতি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও 2026 আর্থিক বছরের প্রথম 11 মাসে আইফোনের রপ্তানি 33 শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে 2025 আর্থিক বছরে ভারতে তৈরি আইফোন রপ্তানি মূল্য ছিল 1.5 ট্রিলিয়ন রুপি।










