রান্নাঘর থেকে শুরু করা ব্যবসায় বাজিমাত সুস্মিতার! সফল হতে দিলেন সাত টিপস

Published:

Ranchi Spice Business Success Story

অনন্যা সরকার, রাঁচি: ঘরে বসে মসলার ব্যবসা করে রাঁচির (Ranchi) সুস্মিতা আজ প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী (Success Story)। তিনি জানান নিজের রান্নাঘর থেকেই যেকোনও মহিলা শুরু করতে পারেন নিজের ব্র্যান্ড, তার জন্য বাইরে যাওয়ার দরকার নেই। অনলাইনেই মার্কেটিং সম্ভব। যদি প্রোডাক্টে দম থাকে তাহলে উন্নতি কেউ আটকাতে পারবেনা। সুস্মিতা জানিয়েছেন কিভাবে তিনি তার প্রোডাক্টের ব্র‍্যান্ডিং ও কোয়ালিটি অ্যাসিওর করেন (Business Tips)। আসুন জেনে নিই ওনার এই সফলতার পিছনে মূল মন্ত্রগুলি কী ছিল।

কয়েকটি ছোট ধাপ হয়ে উঠবে সফল ব্যবসার চাবিকাঠি

সুস্মিতা বলেন, কেউ যদি তার মতো মসলার ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী হন তাহলে প্রথমে তার নিজের হাতেই মশলা প্রস্তুত করা শুরু করা উচিত। এরপর প্রতিবেশীদের প্রয়োজন বুঝে তাদের স্যাম্পল প্রোডাক্ট টেস্ট করতে দিতে পারে। তাদের মতামত প্রোডাক্টের গুণমান বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। 

সুস্মিতার মতে, ব্যবসার শুরুতে লাভ নয় বরং পণ্যের গুণমানের ওপর সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া উচিত। আত্মীয়-পরিজন ও চেনা-পরিচিতদের আপনার তৈরি প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে দিয়ে তাদের মতামত জানুন। তবে, খারাপ ফিডব্যাক পেলে নিরাশ হবেন না। যদি ৫০ বার চেষ্টা করতে হয়, চেষ্টা করুন। সফলতা ঠিকই আসবে। 

এর পরবর্তী ধাপ হল প্যাকেজিং এবং ব্র্যান্ডিং, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ব্র্যান্ডের নাম ঠিক করে যেকোনো প্যাকেজিং স্টোরে গিয়ে কৌটো বা প্যাকেজিং বাক্সের ওপর এক্সপায়ারি ডেট উপকরণ সহ যাবতীয় তথ্য সহজেই ছাপিয়ে নেওয়া যায়। মসলার প্যাকেজিংয়ের ভিতরে কিছু রেসিপিও দেওয়া যেতে পারে, যার মধ্যে সেই মশলা ব্যবহার হয়। 

প্যাকেজিং উচ্চ মানের হওয়া উচিত। সুস্মিতা বলেন, মানুষ আগে বাইরের রূপ দেখে তারপরে ভিতরে কি আছে সেটা পরখ করে। তাই মূল উপকরণের সাথে বাইরের বাক্সগুলিকেও আকর্ষণীয় ও উন্নত মানের হতে হবে, যাতে সহজেই তা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পারে। 

প্রোডাক্ট তৈরির পর তার প্রচার করা খুবই জরুরী।  তাই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা হোয়াটঅ্যাপ স্ট্যাটাসে প্রোডাক্টগুলি পোস্ট করা শুরু করতে হবে। প্রথম অর্ডারে ৫০% পর্যন্ত ছাড় দিলে নিশ্চিত রূপে অর্ডার আসতে শুরু করবে। কন্টাক্ট নম্বর, ইমেইল আইডি-এর সাথে ইনস্টাগ্রামে ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল প্রোফাইল বানালে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ আরও সহজ হয়ে উঠবে। 

এই ধাপগুলো সফলভাবে পার করলে ধীরে ধীরে অর্ডার আসতে শুরু করবে। আর এই এক দুটি অর্ডারকে যদি রিপিট অর্ডারে পরিণত করতে পারেন, তাহলে ধীরে ধীরে একটি বিশ্বস্ত কাস্টমার বেস তৈরি হবে, যা ব্যবসার বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। 

আরও পড়ুনঃ ঘুরে যাবে ভারতের ভাগ্য! আন্দামান উপকূলে মিলল বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাস 

তবে সুস্মিতা একটা কথা অবশ্যই মাথায় রাখতে বলেছেন যে, ব্যবসা করতে গেলে সততা, ধৈর্য এবং কঠোর পরিশ্রমের অত্যন্ত প্রয়োজন। এতে কোন শর্টকাটই কাজে লাগে না। অন্তত পাঁচ বছর একটা ব্র্যান্ড নির্মাণের জন্য পরিশ্রম করতে হয়, যা সঠিকভাবে করলে আপনার সাফল্যের পথে কোনও বাধা থাকবে না। তারপর ঘরে বসেই আরামসে লক্ষ লক্ষ উপার্জন করতে পারবেন।