৯১-এও সিউড়িবাসীর ঘুম ভাঙান তিনি, পদ্মশ্রী রতন কাহারের ভোরাইয়ের সুর মেশে কার্তিকের বাতাসে

Published:

Ratan Kahar

অনন্যা সরকার, বীরভূম: আধুনিকতার আতিশয্যে বাংলার বহু প্রাচীন সংস্কৃতি একে একে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেলেও, কার্তিক মাসে সিউড়ির সকালে আজও অমলিন ভোরাই। প্রায় নব্বই পার করা পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত লোকশিল্পী রতন কাহার (Ratan Kahar) খঞ্জনি বাজিয়ে, মধুর কণ্ঠে গান গেয়ে আজও শহরবাসীর ঘুম ভাঙান। কার্তিক মাসজুড়ে প্রতিদিন অলিগলিতে শোনা যায় তাঁর ‘টহল গান’, স্থানীয় ভাষায় যা ভোরাই নামেও পরিচিত।

আজও রতন কাহারের কণ্ঠে ঘুম ভাঙে সিউড়িবাসীর 

পরনে ধুতি, গেরুয়া পাঞ্জাবি, মাথায় পাগড়ি, কপালে তিলক। খালি পায়ে পথে নামেন প্রবীণ শিল্পী। হাতে থাকা খঞ্জনি থেকে ভেসে আসে টুংটাং সুর, মুখে ভৈরবী সুরে কৃষ্ণনাম। দশকের পর দশক এই দৃশ্য সিউড়িবাসীর অনুভূতির সাথে একাত্ম হয়ে আছে। স্থানীয়রা বলেন, বয়স বাড়লেও, বদলায়নি রতনের এই অভ্যাস। এখনও ভোরে লালমাটির পথ ধরে খালি পায়ে হাঁটেন তিনি। তাঁর কণ্ঠে টহল গান ছাড়া তাঁদের সকাল যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

উল্লেখ্য, রতন কাহার তাঁর দীর্ঘ শিল্পীজীবনে পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্র, তথ্য সংস্কৃতি দফতর সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তরফে প্রদত্ত নানা সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন। ২০২৪ সালে তাঁর প্রাপ্তির তালিকায় যুক্ত হয়েছে দেশের অন্যতম বড় সম্মান পদ্মশ্রী। তবে গানের দুনিয়ায় তাঁর পরিচিতির কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর নিজের লেখা ‘বড়লোকের বিটি লো, লম্বা লম্বা চুল’ গানটি। ১৯৭২ সালে রচিত গানটি প্রথম রেকর্ড করেন স্বপ্না চৌধুরী। পরে বলিউডের র‍্যাপার বাদশাহ ‘লাল গেন্দা ফুল’ গানে ওই গানের পংক্তি ব্যবহার করে শিল্পীকে কৃতিত্ব না দেওয়ায় বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। সেই সূত্রে দেশজুড়ে ফের আলোচনায় আসে রতন কাহারের নাম।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ২৫ হাজার কোটির দুর্নীতি? হদিশ নেই ৩০ লক্ষ উপভোক্তার

লোকশিল্পীরা বলেন কার্তিক হল ধর্মের মাস। কলিযুগে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হরিনামের মাধ্যমে মানুষকে জাগিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি ধরে রাখতেই রতন কাহার ৯১-এ এসেও হরিনামে ভরিয়ে দেন সিউড়ির অলিগলি। ১৯৭৩ সাল থেকেই নিয়মিত এই প্রভাতফেরি করছেন তিনি। তবে বয়সের ভারে এখন শহরের সর্বত্র পৌঁছাতে পারেন না। একসময় মাঠঘাট, পুলিশ লাইন থেকে বড় বাগান ঘুরে গান শোনাতেন। এখন আর শরীর সঙ্গ দেয় না, হাঁটার গতিও ধীর হয়েছে। তবু থামতে চান না এই সুরসাধক। তাঁর কথায়, যতদিন সামর্থ্য থাকবে, ততদিন এই টহল গান চালিয়ে যাবেন। ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে সিউড়িকে জাগানোর অভ্যাসটুকুকে আজও আঁকড়ে রয়েছেন প্রবীণ শিল্পী।

google button
TRENDING সবচেয়ে বেশি পড়া ← বাদিকে স্ক্রল করুন