সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিধায়কদের পদত্যাগ বা দলবদল এবং তার জেরে জনগণের করের টাকায় পুনরায় উপনির্বাচন আয়োজনের প্রবণতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এক মামলায় এবার বিরাট পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ দিয়ে জবাব তলব করেছে। সাধারণ মানুষের টাকায় উপনির্বাচন নিয়ে এবার স্পষ্ট অবস্থান শীর্ষ আদালতের।
উপনির্বাচন নিয়ে বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের
তামিলনাড়ুতে প্রাক্তন শাসক দলের ৬ জন বিধায়ক সম্প্রতি পদত্যাগ করে বিজয়ের টিভিকেতে যোগ দেন। তবে সেই ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করে মাদ্রাজ হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন আইনজীবী কে সুথান। গত ২৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দিলে সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী মার্লিন র্যাচেল জে। সেই মামলার শুনানিতে কেন্দ্র সরকার আর নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, বিধানসভা সচিব এবং দলবদলু প্রাক্তন বিধায়কদের নোটিশ পাঠিয়েছে আদালত।
পিটিশনে প্রশ্ন তোলা হয় যে বিধানসভার আসন কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটা সাধারণ মানুষের ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়। পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদের জন্য ভোটাররা তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে প্রার্থীকে বেছে নেন। কিন্তু জরুরি কোনও কারণ ছাড়াই কেবলমাত্র দলবদলের জন্য বিধায়করা যদি আসন ছেড়ে দেন তাহলে তা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তি আর জনগণের বিশ্বাস ভেঙে যায়। এমনকি দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী পদ খারিজের মুখে পড়ে স্পিকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই বিধায়করা ইস্তফা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, আর নতুন দলের প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে জিতে ফিরে আসছেন বলেও দাবি সুপ্রিম কোর্টের।
আরও পড়ুন: পেট্রোল ছাড়াই চলবে গাড়ি! বিরাট পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের
পাশাপাশি এই ধরনের উপনির্বাচনকে বিলাসবহুল নির্বাচন আখ্যা দিয়ে বলা হয়, কোনও মৃত্যু বা অক্ষমতার কারণে হচ্ছে না এই ভোট। কেবলমাত্র দলবদলকে বৈধতা দিতে গিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে এবং ভোটারদের একই আসনের জন্য বারবার করে ভোট দিতে হচ্ছে। এই মামলার শুনানিতেই উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।










