আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে প্রত্যাশা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে পেনশনভোগীদের একটি সংগঠন ন্যূনতম বেতন ৬৯,০০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে সপ্তম বেতন কমিশন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ১৮,০০০ টাকা। ৬৯,০০০ টাকা কার্যকর করতে হলে বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৫১,০০০ টাকা বাড়াতে হবে। যা অনেকটাই বেশি। আর সেই হিসাবেই ফার সামনে আসছে ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে কেন এত আলোচনা?
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হলো এমন একটি গুণক, যার মাধ্যমে পুরনো বেতনকে বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায় নতুন বেতন কাঠামোয় নির্ধারণ করা হয়। সপ্তম বেতন কমিশনে এই ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭। তবে এবার বিভিন্ন কর্মী ও পেনশনভোগী সংগঠন ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি তুলেছে। কারণ, ১৮,০০০ টাকা বেসিকের সঙ্গে ৩.৮৩ গুণ করলে পাওয়া যায় ৬৮,৯৯৪ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৬৯,০০০ টাকা। NC-JCM, AIDEF, ফেডারেশন অফ ন্যাশনাল পোস্টাল অর্গানাইজেশনস (Federation of National Postal Organisations)-সহ একাধিক সংগঠন এই দাবিটি জানিয়েছে। এর পাশাপাশি Chennai GPO Pensioners-এর তরফে আরো একটি প্রস্তাব জানানো হয়েছে। তারা ৬৮,০০০ টাকা ন্যূনতম বেসিক এবং ৩.৭৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি করেছে।
৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কি সত্যিই কার্যকর হতে পারে?
কর্মী সংগঠনগুলি দাবি করলেই সেই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হবে, এর কোনও নিশ্চয়তা নেই। সপ্তম বেতন কমিশনের সময়ও NC-JCM ৩.৭১ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সরকার বিচার বিবেচনা করে ২.৫৭ ফ্যাক্টর অনুমোদন করে। তাই এবারও সংগঠনগুলির দাবি ও সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর পরিস্থিতি এবং সেই সময়ের DA, HRA-সহ অন্যান্য বেতন উপাদান ধরে বর্তমানে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রায় ২.০৬ হতে পারে। আবার ২.১০ ফ্যাক্টর ধরা হলে মোট বেতনে প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে। এই গোটা বিষয়টি একটি কর্মী সংগঠনের প্রতিনিধির বক্তব্যে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: ছিল প্রচুর বোমা মজুত! বারুইপুরে বিস্ফোরণে উড়ল তৃণমূল নেতার বাড়ি
কর্মী ও পেনশনভোগী সংগঠনগুলির মতামত অনুযায়ী, বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে, সেই খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ন্যূনতম বেতন ঠিক করা উচিত। আর সেই হিসাব করতে পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচের কনজাম্পশন বাস্কেটকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চাল, সবজি, ফল, দুধ, পোশাক, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, জল ও বিনোদনের মতো দৈনন্দিন খরচকে এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয়। সংগঠনগুলির বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে সবকিছুর দাম যে হারে বাড়ছে, এই পরিস্থিতিতে পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ন্যূনতম বেতন আরও বাড়ানো দরকার। তবে শেষ পর্যন্ত অষ্টম বেতন কমিশনে ২.১০, ২.৫৭, ৩.০০ নাকি ৩.৮৩, কোন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হবে, তা কমিশনের সুপারিশ এবং কেন্দ্রের অনুমোদনের পরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে।









