আধার কার্ড বয়সের প্রমাণপত্র নয়, জানিয়ে দিল হাইকোর্ট

Published:

Aadhaar Card

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মোটর দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ মামলায় আধার কার্ডে (Aadhaar Card) উল্লেখিত বয়স প্রমাণ হিসেবে ধরা যাবে না বলেই রায় দিল হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত জানিয়ে দিল, শুধুমাত্র বীমার প্রিমিয়াম জমা পড়লেই বীমা সংস্থার দায়বদ্ধতা শুরু হয় না, বীমা পলিসিতে যে তারিখ এবং সময় থেকে কভারেজ কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ থাকে, সেখান থেকেই বীমা কার্যকর হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এই মামলায় আদালত দুর্ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তি এবং আহত এক ব্যক্তির ক্ষতিপূরণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে।

ঘটনাটি কী?

২০১৯ সালের ১৯ এপ্রিল গভীর রাতে একটি টাটা সুমো একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়েছিল। ওই মোটরসাইকেলে থাকা তিন জনের মধ্যে দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান, এবং অপর একজন গুরুতর আহত হন। তবে আহত ব্যক্তির একটি পা হাঁটুর উপর থেকে কেটে বাদ দিতে হয়। পরবর্তী সময়ে নিহতের পরিবার এবং আহত ব্যক্তি মোটর দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ট্রাইবুনাল ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করলেও বীমা সংস্থাকে দায়মুক্ত ঘোষণা করে গাড়ির মালিক এবং চালককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এদিকে গাড়ির মালিকের দাবি ছিল, দুর্ঘটনার দিন বিকালে বীমার প্রিমিয়াম জমা করা হয়েছিল, এবং সেই অর্থ বীমা সংস্থার অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছিল। তাই দুর্ঘটনার দায় বীমা সংস্থাটির নেওয়া দরকার। কিন্তু ছত্তিশগড় হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রিমিয়াম জমা পড়া এবং বীমা পলিসি কার্যকর হওয়া এক বিষয় নয়। আদালতের মতে, বীমা চুক্তি কার্যকর হয় পলিসিতে উল্লেখিত নির্দিষ্ট তারিখ আর সময় থেকেই। এই মামলায় বীমা পলিসি কার্যকর হওয়ার সময় ছিল ২০ এপ্রিল রাত ১২:০১ মিনিট থেকে। অথচ দুর্ঘটনা ঘটেছিল তার প্রায় ২ ঘণ্টা আগে। যার ফলে ওই দুর্ঘটনার জন্য বীমা সংস্থাকে দায়ী করা যায় না। এমনকি আদালত আরও উল্লেখ করে, যিনি প্রিমিয়াম জমা করেছিলেন তিনি বীমা সংস্থার অনুমোদিত প্রতিনিধি ছিলেন না। সেই কারণে তার কোনও পদক্ষেপের জন্য বীমা কোম্পানিকে আইনে মারপ্যাঁচে ফেলা যাবে না।

আরও পড়ুন: ৮.২৫% হারে সুদ দিতে শুরু করল EPFO, আপনি পেয়েছেন? চেক করুন এভাবে

এদিকে মামলার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আহত ব্যক্তির বয়স নির্ধারণ। মোটর দুর্ঘটনা ট্রাইব্যুনাল শুধুমাত্র আধার কার্ডের তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁর বয়স ৬৮ বছর ধরে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেছিল। তবে আবেদনপত্র, চিকিৎসার নথি এবং প্রতিবন্ধকতা সার্টিফিকেটে তার বয়স ৫৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছিল। সেই কারণে হাইকোর্ট জানায়, শুধুমাত্র আধার কার্ডের তথ্যের উপর ভিত্তি করে বয়স নির্ধারণ করা যায় না। সমস্ত নথি বিবেচনা করে আদালত তার বয়স ৬১ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যেই ধরে। এমনকি ট্রাইব্যুনাল যেখানে ৩৫ শতাংশ অক্ষমতা ধরেছিল, সেখানে হাইকোর্ট তা বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ নির্ধারণ করে, এবং তার ক্ষতিপূরণের অংক ৯৬,৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,৯০,৮০০ টাকা করা হয়। আর এক মৃত ব্যক্তির পরিবারের ক্ষতিপূরণ ২,১৮,২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪,২৬,৪০০ টাকা করা হয়। অপর আরেক মৃত ব্যক্তির পরিবারের ক্ষতিপূরণ ১০,৭৩,৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১,৫৭,৮০০ টাকা করা হয়।