প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিপাকে পড়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মদন মিত্র (Madan Mitra)! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিশ্বাসে আঘাত হেনে সকল পদ ছাড়লেন কামারহাটির বিধায়ক। জানা গিয়েছে, কালীঘাট তৃণমূলের হাত ছেড়ে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে নাম লেখালেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। আজ, বুধবার ভবানীপুরের বাড়ি থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে বিধানসভায় এসে সরাসরি ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি।
পদ ছাড়লেন মদন মিত্র
আগামী ২১ জুলাইয়ের শহীদ দিবস নিয়ে এমনিতেই কালীঘাটের তৃণমূলের মধ্যে এক চাপা উত্তেজনা চলছে। আর এমতাবস্থায় মমতার সঙ্গ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন কামারহাটির প্রবীণ বিধায়ক মদন মিত্রর। প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, মঙ্গলবার রাতে মদন মিত্র সোজা হাজির হয়েছিলেন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক তথা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের অন্যতম সদস্য সন্দীপন সাহার বাবা এবং এন্টালির প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে। তখন থেকেই জল্পনা ছড়ায় যে তিনি মমতার শিবির ছেড়ে ঋতব্রতপন্থী শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। আজ সেই জল্পনাই সত্যি হল।
কী বলছেন মদন মিত্র?
আজ, সকালে নিজের বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে সোহা বিধানসভায় চলে যান মদন মিত্র। তারপর বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে ঢুকে যান। আর সেখান থেকেই তৃণমূলের সব পদ ছাড়ার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “কবিতাটা ছোট্ট, দু’লাইনের- জীবন-মরণ, সাঁকোর সামনে বয়স এখন দাঁড়িয়ে, এখন তোমায় বুঝতে হবে, কী হবে, আর কী হবে না। কোন সাঁকোটা পারাপারের, কোন সাঁকোটা পার হবে না। জীবনের এই মুহূর্তটায় এসে আমি দাঁড়িয়েছি। এটা ঠিক যে আমি তৃণমূলের বিধায়ক। কিন্তু শুধু তৃণমূলের বিধায়ক নই, আমি বাংলার বিধায়ক। তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই আছি। শুধু এ ঘর থেকে ও ঘরে গেলাম।”
#Breaking: Another setback for #MamataBanerjee, as #TMC leader Madan Mitra announces his resignation from all posts of the party & joins the Ritabrata Banerjee led faction of TMC.
This comes a day after ED summoned Madan Mitra’s two sons and wife in connection with municipal… pic.twitter.com/Aa0jSWGIfP
— Pooja Mehta (@pooja_news) July 15, 2026
২১ জুলাই নিয়ে বড় পরিকল্পনা মদনের
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে মদন মিত্র আরও বলেন যে, “ তৃণমূলের সব ছেড়ে দিলাম মানে দলের বিধায়ক নই এটা কেউ ভাববেন না। যত পদ ছিল না, কলাপাতায় লিখে দেওয়া পদ। সব ছেড়ে দিলাম। দুঃখের বিষয় যখন ইতিহাস লেখা হবে বাংলার এই সময় নিয়ে, লেখা হবে যে, একটা লোকের জন্য গোটা দল, যারা ২১৩টি আসন পেয়েছিল, তাদের সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। ওই ঘরে হয়ত একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। আর এই ঘরে হয়ত খাটিয়ে রয়েছে একটা। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।” অন্যদিকে এদিন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী ২১ জুলাই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের শহিদ দিবসের কর্মসূচিতেই উপস্থিত থাকবেন।
আরও পড়ুন: কঠিন শর্তে কালীঘাট তৃণমূলকে একুশে জুলাই করার জায়গা ঠিক করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট
প্রসঙ্গত, ক্ষমতার রদবদল হতেই তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে একে একে যোগ দিতে শুরু করেছেন দলের বহু হেভিওয়েট নেতা। ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পরে এ বার সেই তালিকায় নাম লেখালেন মদনও। এদিকে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির নজরে এবার এল কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। গতকাল, বিধায়কের স্ত্রী এবং দুই পুত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।










