সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনসনে বসেছেন লাদাখের সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অবনতির মুখে। আর হয়তো দুই দিন বাঁচতে পারেন, এমনটাই দাবি করছেন ডাক্তাররা। বুধবার তাঁর অনশন ১৮ দিনে পা দিল। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে প্রাণে বাঁচানোর জন্য এবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ এক আইনজীবী। মামলা দায়ের করে জানানো হয়েছে, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে জোরপূর্বক খাওয়ানো হোক।
শারীরিক অবস্থা খারাপ সোনমের
প্রসঙ্গত, নিট বিতর্কে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জন দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করে অভিজিৎ দিপকের কক্রোচ জনতা পার্টি। তাদের হয়ে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন লাদাখের এই শিক্ষাবিদ। তাঁর দাবি ছিল, ২৭ জুনের মধ্যে যদি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে কোনও প্রত্যুত্তর না আসে তাহলে ২৮ জুন থেকেই অনশন শুরু করবেন তিনি। সেই মতোই কেন্দ্রের সারা না মেলায় ২৮ তারিখ অনশনে বসেন তিনি, এবং ১৭ দিন ধরে যন্তরমন্তরে এই কর্মসূচি চলছে তাঁর।
তবে বর্তমানে সোনমের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাঁর যা অবস্থা তাতে হয়তো তিনি আর খুব বেশি হলে দু’দিন বাঁচবেন। এমনকি ইতিমধ্যেই তাঁর সাড়ে ৮ কেজি ওজন কমেছে এবং রক্তচাপ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০৯/৭০-এ। এদিকে ওয়াংচুকের মতো একজন জাতীয় সম্পাদক হারালে তা যে গোটা দেশের শিক্ষাবিদদের কাছে চরম লজ্জার বিষয় সেই দাবি তুলেই এবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রখ্যাত আইনজীবী ও সমাজকর্মী রাকেশ কুমার সাইনি।
আরও পড়ুন: মিনিটে হবে ১.৫ লক্ষ টিকিট বুকিং, নতুন ওয়েবসাইট লঞ্চ করল IRCTC
হাইকোর্টে তিনি আর্জি জানিয়েছেন, সোনমকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে জোর করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে, এবং এর জন্য কেন্দ্র বা দিল্লির সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, সোনমকে তাড়াতাড়ি একটি সরকারি হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হোক, এবং তরল খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি আর ভিটামিন দেওয়া হোক। এমনকি স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন মামলাকারীর আইনজীবী। বুধবারই এই মামলার শুনানি হতে পারে বলেই খবর।










