পাম তেল নিয়ে দুশিন্তায় ভারত! বাড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম

Published:

Palm Oil Crisis

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের (Middle East War) কারণে এমনিতেই দেশে তেলের সরবরাহ নিয়ে হাহাকার। অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের বাজারে পেট্রোল, ডিজেল নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে এবার সেই আবহে আরও বড় তেলের সংকট দেখা দিতে পারে। কার্যত মধ্যবিত্তর হেঁসেলে টান পড়তে পারে এবার। হ্যাঁ, এবার পাম তেল নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা (Palm Oil Crisis)। যার ফলে দেশের বাজারে সাবান থেকে শুরু করে বিস্কুট, শ্যাম্পু, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দামও বাড়তে চলেছে বলে অনুমান।

দেশে পাম তেলের সংকট

বলে রাখি, ভারত প্রতিবছর আনুমানিক ৯৫ লক্ষ টন পাম তেল ব্যবহার করে, যার সিংহভাগ আমদানি করা হয়। কারণ, বছরে মাত্র ৪ টন তেল উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে দেশের। আসলে যে গাছ থেকে পাম তেল তৈরি হয় তা চাষ করার জন্য অবিরাম বৃষ্টিপাত আর প্রচুর জলের প্রয়োজন, যা ভারতে সম্ভব হয় না। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে প্রচুর এরকম গাছ রয়েছে, যেগুলো থেকেই পাম তেল আসে এবং তা বিশ্বজুড়ে রফতানি হয়। আর ভারত মূলত ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া থেকে এই পাম তেল আমদানি করে থাকে। সবথেকে বড় ব্যাপার, দেশে ব্যবহৃত মোট ভোজ্য তেলের ৪০ শতাংশই পাম তেল। আর অনেক পরিবার রান্নার জন্য এই সস্তার পাম তেলই ব্যবহার করে।

তবে এখানেই তৈরি হচ্ছে সমস্যা। আসলে সবকিছুর মূলে রয়েছে সেই হরমুজ প্রণালী। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়া থেকে যে পাম তেল দেশের বাজারে আসে তা হরমুজ পার হতে পারছে না। কারণ একটাই, ইরানের নিষেধাজ্ঞা। সেই কারণে ইন্দোনেশিয়া জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এখন বিদেশে পাম তেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে, এবং তাদের উৎপাদিত তেল দেশের বাজারেই ব্যবহৃত হবে। যে কারণে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে ভারতীয়দের।

দাম বাড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের

আসলে সস থেকে শুরু করে গ্রেভি, রুটি, পিজ্জা বা যে কোনও খাবার তৈরি করতেই পাম তেল ব্যবহার হয়। খাদ্যশিল্পের আনুমানিক ৭০ শতাংশের বেশি এই পাম তেলের উপর নির্ভরশীল। হোটেল থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ বা ছোটখাটো খাবারের দোকান, রাস্তার খাবার বিক্রেতা, ভাজাভুজি, সবকিছুতেই ব্যাপক হারে পাম তেল ব্যবহার হয়। জানলে অবাক হবেন, সাবান, শ্যাম্পু বা বডি লোশনে যে ফেনা তৈরি হয় তার মধ্যেও এই পাম তেল যোগ করা থাকে। এমনকি টুথপেস্ট, কাপড় কাচার সাবানেও থাকে পাম তেল। অর্থাৎ, ভারতীয়দের দৈনন্দিন জীবনে পাম তেলের গুরুত্ব নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এই পাম তেল আমদানিতে ব্যাঘাত ঘটলে দেশের বাজারে যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়বে তা আগে থেকেই আঁচ করতে পারছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: দেনায় ডুবে রাজ্য! বকেয়া ৬২০০ কোটি মেটাতে মন্ত্রীদের অর্ধেক বেতন ছাঁটাইয়ের প্ল্যান সরকারের

এবার প্রশ্ন জাগতেই পারে যে পাম তেলের এত ব্যবহার কেন? আসলে এর প্রধান কারণ হল দাম। পাইকারি বাজারে পাম তেলের লিটার প্রতি দাম আনুমানিক ১২৫ টাকা। সেখানে অন্যান্য তেলের দাম লিটার প্রতি ১৫০ থেকে ১৭৫ টাকা। আর ভারত পর্যাপ্ত পরিমাণে ভোজ্য তেল উৎপাদন করতে পারে না। সেই কারণেই এই পাম তেল আমদানি করতে হয়, এবং এর চাহিদা অনেকটাই বেশি।