সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতে বসেই নাশকতার ছক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ভয়ংকর ষড়যন্ত্র ফাঁস করল উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) এটিএস বাহিনী। বৃহস্পতিবার যোগীরাজ্যের নয়ডা থেকে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা সরাসরি পাকিস্তানের গ্যাংস্টার এবং কুখ্যাত জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআই (ISI) হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযুক্তদের কাছ থেকে বিদেশী পিস্তল, কার্তুজ ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর।
সমাজমাধ্যমে ছিল জাল বিছানো
উল্লেখ্য, আইন শৃঙ্খলা বিভাগের প্রধান অমিতাভ যশ জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে স্লিপার সেল তৈরির খবর পাচ্ছিল এটিএস। তদন্তে উঠে আসে পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি, আবিদ জাট এবং কট্টরপন্থী পাকিস্তানি ইউটিউবারদের নাম। আইএসআই-র নির্দেশে ভারতীয় যুবকদের মগজ ধোলাই করার চেষ্টা করছে তারা, আর টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের দিয়ে নাশকতামূলক কাজ করানোর ছক করছিল।
সূত্রের খবর, এটিএস-র হাতে ধরা পড়া দুই যুবকের মধ্যে প্রথম জন তুষার চৌহান ওরফে হিজবুল্লাহ আলি খান যিনি মিরাটের বাসিন্দা এবং দ্বিতীয় জন সমীর খান যিনি দিল্লির বাসিন্দা। তদন্তে জানা গিয়েছে, তুষার চৌহান ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমেই পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন। আর ভারতে তাকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির উপর হামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি এর বিনিময়ে ৫০,০০০ টাকা অগ্রিম ও কাজ শেষে আড়াই লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আর নাশকতার পর দুবাই হয়ে তুষারকে পাকিস্তানে পাঠানোর ঘেরাটোপে ফেলা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: কলকাতা থেকে মেট্রো চেপে সোজা হাবড়া, অশোকনগর! বড়সড় প্রতিশ্রুতি অমিত শাহের
ধৃত দ্বিতীয় অভিযুক্ত সমীর খানকেও বড় দায়িত্ব দিয়েছিল পাকিস্তানি হ্যান্ডেলাররা। তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন দেওয়ালে তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান লেখার জন্য আর নতুন যুবকদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক যুক্ত করার জন্য। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা ইতিমধ্যেই সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি চালাচ্ছিল এবং কয়েকজন ব্যক্তিকে খুনের হুমকিও দিয়েছিল। তাদেরকে হেফাজতে নিয়ে এটিএস জানার চেষ্টা করছে যে, এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা এবং এই চক্রটি ঠিক কতদূর বিস্তৃত।










