“নাগরিকত্ব অজানা থাকলে বিদেশিদের দেশ ছাড়া করা যায় না” সুপ্রিম কোর্টে জানাল কেন্দ্র

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে গ্রেফতার করার পর তাঁদের পুশব্যাক করার উদাহরণ রয়েছে একাধিক বিজেপিশাসিত রাজ্যে (BJP Government)। তবে অনুপ্রবেশকারীরা কোন দেশের নাগরিক তা নিশ্চিত হওয়া না পর্যন্ত কি তাঁদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায়? সদ্য সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court Of India) এমন প্রশ্নের উত্তর জানিয়েছে খোদ কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government)। দেশের শীর্ষ আদালতে নরেন্দ্র মোদির সরকার খুব পরিষ্কারভাবে বলেছে, “একজন বিদেশী ব্যক্তি কোন দেশের নাগরিক তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দেশ থেকে তাড়ানো যায় না।”

সুপ্রিম কোর্টে কোন মামলায় এমন তথ্য দিল কেন্দ্র?

অনেকেই হয়তো জানেন, বর্তমানে অসমে অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে বন্দী শিবিরের আটকে রয়েছেন 270 জন ব্যক্তি। সূত্রের খবর, এদের মধ্যে 60 জনের বেশি ব্যক্তিকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা গিয়েছে। বাকিদের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত। সে প্রসঙ্গেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা জানিয়েছেন, একজন ব্যক্তিকে বিদেশি বলে চিহ্নিত করা গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ যুক্তিযুক্ত হতে হবে। দীর্ঘদিন কাউকে আটকে রাখা যায় না।

ANI এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এবার সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, একজন ব্যক্তিকে বিদেশি চিহ্নিত করার পরেও চাইলেই তাঁকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় না। তিনি আসলে যে দেশের প্রকৃত নাগরিক সেই দেশের সরকার তাঁর পরিচয়পত্র সহ যাবতীয় বিষয় যাচাই করে অনুমোদন দিলে তারপরেই তাঁকে সে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া যায়।” কেন্দ্রের তরফে এও জানানো হয়েছে, কোনও বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা না থাকলে তাঁকে দেশে পাঠানো যেতে পারে।

অবশ্যই পড়ুন: “আমাদের নেতারা এখন মধুতে আসক্ত!” দলের ভেতরে কাদের নিশানা করলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ?

আদালতে হলফনামা জমা দিয়ে কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়, অনুপ্রবেশকারী বা বিদেশি নাগরিকদের বিদেশের নাগরিকত্ব যদি অজানা থাকে সেক্ষেত্রে তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া যায় না। এর জন্য সংশ্লিষ্ট দেশটির দূতাবাস ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করবে। জানা গিয়েছে, অসমে যেসব বিদেশীরা বর্তমানে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন তাঁদের বেশিরভাগেরই পরিচয় বা নাগরিকত্ব নিশ্চিত করেনি বাংলাদেশ!