সোনম ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

Published:

Sonam Wangchuk

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আজ ১৯ দিন ধরে অনশনে সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। শারীরিক অবস্থা শোচনীয় তাঁর। ডাক্তারদের দাবি অনুযায়ী, আর দুই দিন আয়ু রয়েছে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের। গতকাল তাঁকে জোরপূর্বক খাওয়ানোর জন্য দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেন প্রখ্যাত আইনজীবী। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনও উদ্বেগ চোখে পড়েনি। এবার এ নিয়ে হাইকোর্ট স্পষ্ট অবস্থান জানাল।

কেন্দ্রকে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা কেমন, তাঁর পরিস্থিতি কী সে বিষয়ে কর্ণপাত করেনি কেন্দ্র সরকার। গতকাল মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্ট এবার কেন্দ্রকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রত্যেক নাগরিকের জীবন মূল্যবান। এই কারণে নিয়মিত সোনমের মেডিকেল পরীক্ষা করতে হবে। আর প্রয়োজনে ওষুধপত্র প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি তাঁর জীবন বাঁচানোর জন্য সরকারকে চেষ্টা করতে হবে। এমনকি অনশন ভাঙাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে আদালত। যদিও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

গতকাল আইনজীবি তথা সমাজকর্মী রাকেশ কুমার সাইনি আদালতে মামলা করেন। তাঁর দাবি ছিল, সোনম ওয়াংচুকের মৃত্যু হলে তা দেশ এবং বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক। তাঁকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খাবার প্রদান করা হোক। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতাল চিকিৎসার বন্দোবস্ত করার দাবি করা হয়। সেই সূত্র ধরেই এবার হাইকোর্ট বড় বার্তা দিল কেন্দ্রকে। এদিন কেন্দ্রের তরফে সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহতা স্বীকার করেন যে, সমাজকর্মীর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে না সরকার।

আরও পড়ুন: আশ্বাস দিয়ে ধাপ্পাবাজি! অভিষেকের উদাসীনতায় হাত বাদ ৩ বছরের শিশুর

তাঁর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানায়, “আমরা চাই সরকারি চিকিৎসকরায় ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুক। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই যদি সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হয় তাহলে দয়া করে সেটা করুক। প্রত্যেকে জীবন মূল্যবান।” উল্লেখ্য, গত ১৯ জুন সোনম ওয়াংচুক ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন। তিনি জানান, ২৭ জুনের মধ্যে যদি ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করেন তাহলে ২৮ জুন থেকেই অনশনে বসবেন, এবং সেই মতোই আজ ১৯ দিনে পা দিল তাঁর অনসন। ইতিমধ্যেই তাঁর ওজন কমেছে প্রায় ৯ কেজি, এবং রক্তচাপ ১০৫/৭৬ মিমি এইচজি।