ভারতে আনা হল দাউদ ঘনিষ্ঠ ৫০০০ কোটির ড্রাগ কাণ্ডের হোতা সেলিম ডোলাকে

Published:

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মিলল সাফল্য। দাউদ ইব্রাহিমের (Dawood Ibrahim) অন্যতম প্রধান সহযোগী তথা ৫০০০ কোটির আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের মাস্টারমাইন্ড সেলিম ইসমাইল ডোলাকে (Salim Ismail Dola) ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে খবর। গত রবিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তাঁকে আটক করা হয়েছে। তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয়ের মাধ্যমেই মঙ্গলবার সকালে তাঁকে মুম্বাই বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে। এরপরই তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

কীভাবে ধরা পড়ল এই মাফিয়া?

বলাবাহুল্য, সেলিম ডোলা দীর্ঘদিন ধরেই দুবাই থেকে তাঁর সাম্রাজ্য পরিচালনা করছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বিশেষ করে জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করার জেরেই সে আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়ল। সে একটি ভুয়ো আমিরশাহীর পাসপোর্ট ব্যবহার করে তুরস্কে প্রবেশ করেছিল। আর ভারত এবং তুরস্কের মধ্যে সরাসরি কোনও রকম চুক্তি না থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সহযোগিতায় তাঁকে ভারতে আনার প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়। উল্লেখ করার বিষয়, ২০২৫ সালে সেলিমের ছেলে তাহের ডোলাকে ভারত সরকার দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল। আর তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই সেলিমের ইস্তাম্বুলের গোপন ডেরার হদিশ পায় ভারতীয় গোয়েন্দারা।

তদন্তকারীদের মতে, সেলিম ডোলা ছিলেন মেফেড্রোন নামক সিনথেটিক ড্রাগ তৈরির মূল অর্থদাতা আর কারিগর। দাউদ ইব্রাহিমের ডি কোম্পানির হয়ে সে গোটা বিশ্বে মাদকের জাল বিস্তার করেছিল। ২০২৪ সালে মহারাষ্ট্রে ২৫৩ কোটি টাকা মূল্যের ১২০ কেজি হাই কোয়ালিটি এমডি ড্রাগ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। আর সেই মামলার সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত এই সেলিম। এমনকি মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের গোপন ল্যাবগুলিতে কাঁচামাল সরবরাহ করা থেকে শুরু করে ব্রিটেন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে মাদক পৌঁছে দেওয়ার নিয়ন্ত্রণ ছিল সেলিমের হাতেই।

আরও পড়ুন: ৩ মাস ধরে যাত্রীদের ঠকিয়ে টাকা আদায়, বহরমপুর স্টেশনে গ্রেপ্তার নকল টিটিই

তবে বর্তমানে সেলিমের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনের আওতায় ডজনখানেক মামলা ও ইডির একাধিক অর্থ পাচারের মামলা চলছে। আর তাঁকে বর্তমানে গোপন স্থানে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।