৩ মাস ধরে যাত্রীদের ঠকিয়ে টাকা আদায়, বহরমপুর স্টেশনে গ্রেপ্তার নকল টিটিই

Published:

Berhampore Railway Station

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের নকল টিটিই (Fake  TTE) সেজে প্রতারণার অভিযোগ উঠল বহরমপুর স্টেশনে (Berhampore Railway Station)! ৩ মাস ধরে ফাইন আদায় করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে, অবশেষে গ্রেপ্তার (Arrest) করা হল অভিযুক্তকে। প্রায়শই শিয়ালদহ ডিভিশনে টিকিট পরীক্ষক সেজে প্রতারণার ঘটনা ঘটেই চলেছে। মাঝেমধ্যেই যাত্রীরা এই ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন যে নকল টিটিই পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আদায় করছে অসাধু চক্র। এবার সেই একই ঘটনার ছায়া দেখা গেল বহরমপুর স্টেশনে।

ধরা পড়ল নকল টিটিই!

রিপোর্ট মোতাবেক, বহরমপুর স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ফুটব্রিজের কাছে এক ব্যক্তি কালো কোট এবং গলায় ‘ইস্টার্ন রেলওয়ে’ লেখা কার্ড গলায় ঝুলিয়ে প্রায়ই যাত্রীদের কাছ থেকে রেলের টিকিট চেক করে থাকেন। কিন্তু এই ব্যাপারে তাড়াহুড়োর বসে কোনো যাত্রীর তেমন কোনো সন্দেহ হয়নি তবে গত রবিবার, দুপুরে তাঁকে টিকিট সংগ্রহ করতে দেখে সন্দেহ হয় কয়েকজনের। ব্যাস, তাঁকে চেপে ধরতেই বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। জানা গিয়েছে প্রতারকের নাম মোহন চৌধুরী। তাঁর বাড়ি সুতি থানার ওমরাপুরে। তাঁর গলায় যে পরিচয়পত্র ঝুলছিল, সেটি আদতে নকল।

চক্রের বাকিদের খোঁজ করছে পুলিশ

রেল পুলিশ সূত্রে খবর ওই প্রতারকের পরিচয়পত্রে যে সিরিয়াল নম্বর রয়েছে, তা আসলে নাকি শিয়ালদহ ডিভিশনের কিন্তু পরিচয়পত্রে সই রয়েছে মালদা ডিভিশনের এক রেল অধিকারিকের। এর পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরার মাধ্যমে তিনি স্বীকার করেন যে অর্থ যোগানের এই চক্রে আরও তিন জন জড়িত রয়েছে। যারা তাঁকে নকল ওই বেল্ট ও পরিচয়পত্র বানিয়ে দিয়েছে। অভিযোগ ওই প্রতারক যাত্রীদের কাছ থেকে গত তিন মাস ধরে নকল টিটিই সেজে অর্থ আদায় করেছিল। আপাতত চক্রের বাকিদের খোঁজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: ডাক্তারি ছেড়ে দুঁদে পুলিশ কর্তা, ‘সিংহম’ নামে খ্যাত কে এই IPS অজয় পাল শর্মা?

প্রসঙ্গত, গতকাল অর্থাৎ সোমবার বহরমপুরে সিজেএম আদালত থেকে প্রতারক মোহন চৌধুরীকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নকল টিটিই-র এই অসাধু চক্র রুখতে অবশেষে বড় পদক্ষেপ করেছে ইস্টার্ন রেলওয়ে। চালু করা হয়েছে বিশেষ ‘ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন ব্যাজ’। এই ব্যাজই এখন কোনও টিটিই-র প্রকৃত পরিচয়ের সরকারি প্রমাণ। তবে সেটি কতটা কাজে দেয় এখন সেটাই দেখার। রেলের তরফে স্পষ্ট বার্তা যাত্রী নিরাপত্তা এবং পরিষেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই প্রথম লক্ষ্য। টিকিট চেকিংয়ের মতো সংবেদনশীল জায়গায় দুর্নীতি কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না।