সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশী প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল থাকার পর এবার নিজস্ব যুদ্ধবিমান (Fighter Jet) ইঞ্জিন তৈরি করার পথে বিরাট ঝাঁপ মারল ভারত। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগ, ফরাসি সংস্থার সাফরানের সঙ্গে যৌথ প্রকল্প আর দেশীয় গবেষণা কর্মসূচির গতি বাড়ার কারণে ভারতের প্রথম স্বদেশী ফাইটার জেট ইঞ্জিন তৈরির পরিকল্পনা এবার বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। এমনকি প্রতিরক্ষা মহলের দাবি, এই প্রকল্প সফল হলে যুদ্ধবিমান প্রযুক্তিতে সীমিত কয়েকটি দেশের কাতারে জায়গা করবে ভারত!
স্বনির্ভর যুদ্ধবিমান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ভারতের
আসলে ২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমান এবং ভারতীয় ইঞ্জিন তৈরির উপর জোর দিয়েছিলেন। তার ঠিক এক বছরের মধ্যে সেই লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট প্রকল্পের জন্য বেসরকারি শিল্প গোষ্ঠীকেও এবার যুক্ত করা হয়েছে। টাটা থেকে শুরু করে ভারত ফোর্জ, L&T সহ কয়েকটি সংস্থা এবার এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত।
এদিকে ভারতের গ্যাস টারবাইন রিসার্চ এস্টাব্লিশমেন্ট এবং ফরাসি সংস্থা সাফরান যৌথভাবে নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই ইঞ্জিনের প্রোটোটাইপ তৈরির কাজ শুরু হবে। এমনকি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে যুদ্ধবিমান ইঞ্জিনের জন্য বিদেশী সংস্থার উপর ভারতের নির্ভর করতে হবে না। কারণ, বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার বহু যুদ্ধবিমান রাশিয়া, ফ্রান্স কিংবা আমেরিকার তৈরি ইঞ্জিন ব্যবহার করে।
আরও পড়ুন: হঠাৎ মাঝ আকাশ থেকে ৩০০ ফুট নিচে পড়ল Air India-র বিমান, ছিটকে গেলেন যাত্রীরা!
উল্লেখ্য, নতুন এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৪০ কিলো নিউটন ক্ষমতার আধুনিক যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আর এই ইঞ্জিন ভবিষ্যতে এএমসিএ স্টেল্থ ফাইটার এবং নৌবাহিনীর টুইন ইঞ্জিন যুদ্ধবিমানে ব্যবহার করারও পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় কাবেরী ইঞ্জিন প্রকল্পকেও নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে কাবেরী ইঞ্জিন বেশি ক্ষমতা অর্জন করতে না পারলেও বর্তমানে উন্নত সংস্করণ তৈরির কাজ চলছে। গবেষকদের একটাই লক্ষ্য, ভবিষ্যতে আরও বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন দেশীয় ইঞ্জিন তৈরি করা, যাতে বিদেশের উপর নির্ভরযোগ্যতা অনেকটাই কমে। আর সেই তালিকায় এবার নাম লেখাচ্ছে দেশীয় যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন।










