ওড়িশার উপকূলে সফল পরীক্ষণ ভারতের নিজস্ব দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল, কামাল DRDO-র

Published:

LR-LACM Missile

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এবার আরও এক সাফল্য। দীর্ঘ পাল্লার ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইলের (LR-LACM Missile) সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে ফেলল ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা ডিআরডিও (Defence Research and Development Organisation)। ওড়িশার উপকূল থেকে সোমবার এই অত্যাধুনিক মিসাইলের পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে খবর। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিসাইল ভবিষ্যতে ভারতের সামরিক শক্তিকে আরও একধাপ উপরে নিয়ে যাবে।

সফল ডিআরডিও-র প্রজেক্ট

জানা গিয়েছে, ওড়িশার চাঁদিপুরে ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে মোবাইল লঞ্চারের মাধ্যমে মিসাইলটিকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। পরীক্ষার সময় নির্ধারিত সংস্থার সমস্ত লক্ষ্য সফল ভাবে পূরণ করেছে এই মিসাইল, এমনটাই খবর ডিআরডিও সূত্রে। এদিকে রাডার, টেলিমেট্রি স্টেশন এবং ইলেকট্রিক অপটিক্যাল ট্রাকিং সিস্টেমের সাহায্যে পুরো উড়ানের উপর নজর রাখা হয়েছে বলেও খবর।

প্রতিরক্ষা মহল এই মিসাইলকে আমেরিকার বিখ্যাত টমাহক ক্রুজ মিসাইলের সমান বলেই মনে করছে। কারণ, এটি দীর্ঘ দূরত্বে শত্রুদের ঘাঁটিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালাতে পারে। এমনকি এই মিসাইলের পাল্লা ১০০০ থেকে ১৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিসাইলের সবথেকে বড় শক্তি হলো এর টেরেন ফলোয়িং প্রযুক্তি। অর্থাৎ, ভূমির খুব কাছ থেকে উড়ে গিয়েই এটি শত্রুপক্ষের রাডারকে ফাঁকি দিতে পারে। আর একইসঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছ দিয়ে উড়তে সক্ষম হওয়ায় আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের লক্ষ্যবস্তুকে সরাসরি আঘাত হানতে পারে।

উল্লেখ্য, এই মিসাইলে ব্যবহার করা হয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মানিক স্মল টার্বোফ্যান ইঞ্জিন। যার ফলে বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমেছে। ডিআরডিও সূত্রে খবর, ভবিষ্যতে এই মিসাইলকে স্থল বাহিনী, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনা, তিন বাহিনীতেই ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য এই মিসাইল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, যুদ্ধজাহাজ থেকেই মিসাইলটি উৎক্ষেপণ করে শত শত কিলোমিটার দূরে শত্রুর ঘাঁটিতে সরাসরি হামলা চালানো সম্ভব। বিশেষ করে আরবসাগর কিংবা বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করেও শত্রু দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে নিশানা করা যাবে।

আরও পড়ুন: Re-NEET পরীক্ষার আগে দেশে নিষিদ্ধ হল টেলিগ্রাম, বিরাট সিদ্ধান্ত সরকারের

না বললেই নয়, এই প্রকল্পের সূত্রপাত হয়েছিল বহু আগের ‘নির্ভয়’ মিসাইল কর্মসূচি থেকেই। শুরুতে একাধিক পরীক্ষায় সমস্যার মুখে পড়েছিল ডিআরডিও। কিন্তু ধাপে ধাপে প্রযুক্তিগত ত্রুটি কাটিয়ে ওঠে। আর সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তৈরি করা হয়েছে এই নতুন প্রজন্মের LR-LACM মিসাইল। প্রতিরক্ষা মহলের মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ পাল্লা, নির্ভুল হামলার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে এই মিসাইল প্রতিরক্ষা খাতে একেবারে ব্রহ্মাস্ত্রেরের মতো কাজ করবে।